শতাধিক নারীকে পাচার করেছে ডিজে কামরুলের চক্র : র্যাব

রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, তেজগাঁও ও চুয়াডাঙ্গা থেকে বিদেশে পাচার হতে যাওয়া ২৩ জন নারীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ছাড়া দুটি পাচার সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল র্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
আজ শনিবার রাজধানীর র্যাব-২-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক মো. মোজাম্মেল হক।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কামরুল ইসলাম ওরফে ডিজে কামরুল (৩৭), রিপন মোল্লা (২২), আসাদুজ্জামান সেলিম (৪০), নাইমুর রহমান (২৫), নুর-নবী ভুইয়া রানা (৪৪), আবুল বাশার (৫২), আল ইমরান (৪১), মনিরুজ্জামান (৩৫), শহিদ সিকদার (৫৪), প্রমোদ চন্দ্র দাস (৬২)ও টোকন (৪৫)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৫৩টি পাসপোর্ট, ২০টি মোবাইল, আট বোতল বিদেশি মদ, ২৩ ক্যান বিয়ার, দুটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার এবং নগদ ৯১ হাজার ৪০ টাকাসহ মানবপাচার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
মোজাম্মেল হক দাবি করেন, ‘পাশ্ববর্তী দেশে মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা কামরুল ইসলাম ওরফে ডিজে কামরুল। এ চক্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি সক্রিয়ভাবে মানবপাচারের মতো অপরাধ করে আসছে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কমবয়সী মেয়েদের প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে আসছে।’
‘প্রথমে চক্রটি নাচ শেখানোর নামে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সুন্দরী মেয়েদের ঢাকায় নিয়ে আসতেন। তাদেরকে বেপোয়ারা জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে ফেলা হত। পরবর্তীতে তাদের পাশ্ববর্তী দেশে বিভিন্ন চাকরির কথা বলে প্রলুব্ধ করে পাচার করতেন। এভাবে চক্রটি দুই থেকে তিন বছরে প্রায় শতাধিক মেয়েকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে। ভুক্তভোগীদের পার্শ্ববর্তী দেশে মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হত। মূলত অমানবিক এবং অনৈতিক কাজ করানোর জন্য তাদের পাচার করা হত’, যোগ করেন মোজাম্মেল হক।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের সীমান্তের অরক্ষিত এলাকা দিয়ে পাচার করা হয় বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা। এ চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশের সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে।