নারীর পরিচালক পুরুষ, শীর্ষ পদ মুখ্য নয় : জামায়াতের নারী নেত্রী
‘জামায়াতের শীর্ষ পদে যাওয়া মুখ্য নয়’ উল্লেখ করে দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, পুরুষ হলো নারীদের পরিচালক। ইসলামী সংগঠনে নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারে না। এটা মেনে নিয়েই আমরা চলছি।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন নূরুন নেসা সিদ্দীকা।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন। আর ইসলামী সংগঠন ইসলাম মেনেই চলবে। সেই হিসাবে কোনো ইসলামী সংগঠনে নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারে না। এটা মেনে নিয়েই আমরা চলছি। তাই শীর্ষ পদে (আমির) নারী আসার বিষয়টি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা।
এ নারী নেত্রী বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীদের সমস্যা কি সমাধান হয়েছে? নারীদের প্রতি সহিংসতা কি কমেছে? অধিকার কি আদায় হয়েছে? তাই, আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা মানবিক হবে।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সদস্য প্রফেসর ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, সারা বাংলাদেশে মা-বোনদের ওপরে হামলা হচ্ছে। আমরা সেই প্রতিবাদ করার জন্য এখানে এসেছি। বাংলাদেশের সমস্ত মা-বোনদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ ছুটে এসেছে। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা অনেকগুলো ইনসিডেন্সের ডকুমেন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি।
ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ নারী। আমরা একটি সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চাই। কারণ, গত ১৬ বছর আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি। সুতরাং এই ইলেকশনটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ইলেকশনে আমাদের বোনদেরকে প্রতিহত করার জন্য একটা গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেয়েদের সম্মান করে উল্লেখ করে হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে ইসলামী আপ্রাণ চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামীতে আমরা ৪৩ শতাংশ মহিলা রিপ্রেজেন্টেটিভ আছি। সুতরাং এই অর্গানাইজেশন নারীদের মূল্য দিচ্ছে, সম্মান দিচ্ছে, অধিকার দিচ্ছে। এই অধিকার, সম্মান যাতে বাংলাদেশের সমস্ত নারীরা পেতে পারে; এই মিশন ও ভিশন নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, রুরাল থেকে আরবান এরিয়া-সব জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব আছে। আমরা তাদের লিডারশিপ ট্রেনিং দিচ্ছি। বাই দিস টাইম আমাদের পরিচয় সাধারণ নারীরা পেয়ে গিয়েছেন। যারই ফলশ্রুতিতে এই বাধা আসছে। কিছু মহল এই এক্টিভিটিসকে পছন্দ করছে না। তারা মনে করছে, ইলেকশনে যদি নারীরা কোনদিকে ঝুঁকে যায়, তাহলে এটা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। আমি মনে করি, এই প্রতিহিংসার কারণে তারা আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, আপনারা নিরপেক্ষভাবে এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেন। সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করে দেন। যাতে ১২ তারিখে আমাদের মা-বোনেরা সুন্দরভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। কারও মত এবং চিন্তাকে বাইফোর্স আঘাত করে আমাদের নারীদের অধিকার কেউ ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। এই সাহস আমাদের আছে। যেখানে বাধা আসবে, আমরা প্রতিরোধ করব। আমরা অবলা নই।
নারী কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন, কিন্তু জামায়াত থেকে কোনো নারী প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন-এমন প্রশ্নে হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারীর এম্পায়ারমেন্টের ব্যাপারে কখনো প্রতিবন্ধক নয়। আমরা প্রিপেয়ার হচ্ছি, আমাদের এডভাইজারি কমিটিতে আমরা ডিসিশন নিয়েছি, সেই এডভাইজারি কমিটিতে ৪৩ জন নারী আছে। আমাদের সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার আমরা কোনো ক্যান্ডিডেট দেব না। লোকাল ইলেকশনে আমরা পার্টিসিপেট করেছি। সেই ডাটা আপনাদের কাছে আছে। আমরা পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমরা অবশ্যই একটিভলি কাজ করছি, যার ফলশ্রুতিতে আপনারা দেখছেন যে নারীদের ওপরে বাধা আসছে।
কতটি স্থানে নারীদের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, আমরা ১৫টি জায়গায় ডকুমেন্টস সিইসির কাছে দিয়েছি। এ ছাড়া আরও অনেক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি আন্তরিকভাবে শুনেছেন। পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক