রাষ্ট্রের পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা আইনজীবীদের : শিশির মনির
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, রাষ্ট্রের পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে আইনজীবীদের। রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের যে আশা আমরা করেছিলাম, তা যদি না করতে পারি; তাহলে যে স্বপ্নগুলো আমরা দেখেছিলাম তা অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাবে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল’ এর ময়মনসিংহ ইউনিটের নবীন আইনজীবীদের পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
সংগঠনটির ময়মনসিংহ ইউনিটের সভাপতি এ কে এম আমান উল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মতিউর রহমান আকন্দ, মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসানসহ অন্যান্যরা।
শিশির মনির বলেন, সম্প্রতি বিচারকদের নিয়ে আদালত একটি রায় দিয়েছেন। সেই রায়ে অধস্তন বিচার বিভাগকে স্বাধীন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বদলি, পদোন্নতি, ছুটি, শৃঙ্খলা—এগুলো আর রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে না । এগুলো সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এর ফলে সুন্দরবন-বান্দরবনে আর বদলির আদেশ দিতে পারবে না আইন মন্ত্রণালয়। আর পারবে না বলেই সরকার ভীত হয়ে পড়েছে।
শিশির মনির আরও বলেন, আইনজীবীদের ফিটনেস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্টেমিনা ভালো না থাকলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না। সারা রাত ঘেঁটে যা দরকার তা পাওয়া যায় না। পরের দিন কোর্ট। ভালো উকিলরা সময় নেন না, পচা উকিলরা সময় চায়। আদালতে গিয়া বলে মাই লর্ড সময় দেন, সময় দেন। জজ সাহেব বুঝে যায় এর ভেতরে জিনিস নেই। আদালতের জজ সাহেবরা আইনজীবীর সঙ্গে প্রভু-ভৃত্যের মতো আচরণ করেন। মনে হয় যেন কোনরকমে তাড়াইয়া দিতে পারলেই বাঁচে। এজন্য উকিলরাই দায়ী। উকিলরা গিয়া বলেন, বেল দেন স্যার, দয়া করেন স্যার—এগুলার কারণে জজ বুঝে যায়, এর ভেতরে জিনিস নেই। তখনই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। সত্যিকার অর্থে আমার-আপনার ভেতরে যদি আইন আরগুমেন্ট থাকে, মেটেরিয়াল থাকে, তাহলে ওই জজ সাহেব আপনার-আমার কাছে আইন শেখার জন্য আসতে বাধ্য।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির আরও বলেন, যিনি সহকারী জজ হিসেবে চাকরিতে আসেন, তিনি কতটুক লেখাপড়া করে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয় পাস করে ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে বিসিএস পরীক্ষায় পাস করে পোস্টিং পান। কিছু কিতাবি নলেজ ছাড়া বাস্তবে তার তো আইন ভালো জানার কথা নয়। এজন্য যারা সত্যিকারের সিনিয়র, তাদের কাছে বিচারকরা কোনো না কোনো কারণে দায়বদ্ধ থাকেন। এজলাস থেকে নেমে চা পানের দাওয়াত দেন। সবাইকে তো দেন না। সবাইকে নয়, কার্যকর লোকটাকেই তারা দাওয়াত দেন।
সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বিশেষ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইসলামিক লইয়ার্স কাউন্সিল নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের’ যাত্রা শুরু হয়। সে সময় একটি লক্ষ্য ছিল আইনের শাসন। ৫১ দিনের বর্তমান সরকারে কোনো আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নেই। কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে যা হচ্ছে, তা হলো স্বেচ্ছাচারিতা। ভোলায় একজন নারীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, সংবিধান-আইন-মানবাধিকার কোনো কিছু্ই আর বাংলাদেশে সুরক্ষিত নেই।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ