ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরছে বুয়েট
আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ১০ দফা দাবি পুরোপুরি পূরণ হওয়ায় ওই ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে টার্ম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ বুধবার বিকেলে বুয়েটে শহীদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ কথা জানান।
লিখিত বক্তব্যে বুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কৌশল বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর প্রতিবাদে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৭ অক্টোবর থেকে আবরার হত্যার বিচার এবং একই সঙ্গে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে প্রথমে আট দফা এবং পরে সংশোধিত ১০ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু করি।’
সায়েম বলেন, ‘এরই মধ্যে গত ১৪ অক্টোবর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ভর্তিচ্ছুদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমাদের আন্দোলন দুই দিনের জন্য শিথিল করি এবং আন্দোলনের নয় দিনের মাথায় ১৬ অক্টোবর গণশপথের মধ্য দিয়ে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন তুলে নিই। আমাদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কোনো অপশক্তি যাতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে এবং একই সঙ্গে বুয়েট প্রশাসন যাতে কাজ করতে পারে সেজন্যই মূলত মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন থেকে সরে আসা হয়।’
সায়েম আরো বলেন, ‘এরপর আমরা নিয়মিত বুয়েট প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন দফার অগ্রগতি নিয়ে আপডেট নিতে থাকি। এরমধ্যে তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে গত ১৩ নভেম্বর আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে শুরু থেকেই সচেষ্ট ছিলেন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার ব্যাপারে জানান।’
সায়েম আরো বলেন, ‘এর আগে গত ২ নভেম্বর কাউন্সিল অফিসে ভিসি স্যারের সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার ও বিভিন্ন অনুষদের ডিন স্যারদের উপস্থিতিতে মিটিং করি এবং বুয়েটকে দ্রুত সচল করার জন্য আমরা সবশেষে কেবল তিনটি পয়েন্ট এর কথা বলি এবং এই তিনটি পয়েন্ট এর প্রথম দুটি মেনে নেওয়া হলে আসন্ন টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ নেওয়া হবে এবং তৃতীয়টি টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে মেনে নেওয়া হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হবে বলে জানাই।’
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরে সায়েম আরো বলেন, ‘এরপর গত ২১ নভেম্বর বুয়েট প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২৬ জনকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এবং ছয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক বহিষ্কার করে যা আমাদের তিনটি পয়েন্টের প্রথম পয়েন্ট ছিল। এরপর গত ২৭ নভেম্বর বুয়েট কর্তৃপক্ষ আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলে ঘটা পূর্বের র্যাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি প্রদান করে নোটিশ দেয় যা আমাদের দেওয়া দ্বিতীয় পয়েন্ট ছিল।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ পয়েন্ট মেনে নেওয়া হয়েছে সেজন্য আমরা গত বুধবার পরীক্ষার তারিখের ব্যাপারে এক্সাম কন্ট্রোলার, রেজিস্ট্রার, সকল অনুষদের ডিন স্যারদের উপস্থিতিতে ভিসি স্যারের সাথে কথা বলি এবং পরীক্ষা প্রস্তুতির সময় চেয়ে ২৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার কথা বলি। তখন স্যাররা ২৮ তারিখে পরীক্ষা শুরু করার অনুরোধে করলে আমরা এতে সম্মত হই।’
সায়েম বলেন, ‘আমরা বুয়েটের সমস্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই যারা আবরার ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করেছেন, যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে আজ আমরা একটি সুস্থ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাই বুয়েটের সমস্ত অ্যালামনাইদের যারা সমস্ত সময় পাশে থেকেছেন এবং দেশে-বিদেশে আবরার হত্যার বিচার ও একটি সুন্দর বুয়েট ক্যাম্পাসের দাবিতে কথা বলেছেন। ধন্যবাদ জানাই বুয়েট প্রশাসনকে আমাদের দাবিগুলো পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর জন্য। সর্বোপরি আমরা ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সকলকে যারা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে আমাদের সাথে একাত্মতা জানিয়েছেন ও এতটা দিন আমাদের পাশে ছিলেন।’
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় গত ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ জন আসামিকে বুয়েট থেকে বহিষ্কার করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই ঘোষণা দেন বুয়েটের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা