নবজাতক ‘মুক্ত’ পেল নতুন ঠিকানা

মৌলভীবাজারের অভিভাবকবিহীন নবজাতক ‘মুক্ত’ পেয়েছে নতুন ঠিকানা। মৌলভীবাজারের শিশু আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তাকে একটি পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন।
নবজাতককে উদ্ধারের পর এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে আদালত গত ১ জুন এক আদেশে নবজাতক ছেলে শিশুটির অভিভাবকত্ব নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতে আবেদনের নির্দেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবদুল হাদী, মো. হারুন-উর রশিদ, সোহেনা আক্তার সুমী, মিনারা বেগম ও পারুল আক্তার এই পাঁচজন নবজাতক ছেলে শিশুটির অভিভাবকত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। ১২ জুন আদালতে এই পাঁচজনের আবেদনের ওপর তাঁদের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী শুনানি করেন।
বিচারক আবেদন পর্যালোচনা ও দীর্ঘ শুনানি শেষে শিশুটিকে সদর উপজেলার নাদামপুর (হামরকোনা) এলাকার আবদুল হাদী ও তাঁর স্ত্রী মাসুদা বেগমের হেফাজতে দেওয়ার আদেশ দেন।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, হেফাজতে গ্রহণকারী দম্পতি শিশুটিকে দেশ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে নিয়োজিত করতে পারবেন না। তার সার্বিক কল্যাণে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। শিশুটির জন্মদাতা বাবা-মা উপযুক্ত প্রমাণাদি সাপেক্ষে আদালতের অনুমতি ছাড়া শিশুটিকে তাদের হেফাজত থেকে গ্রহণ করতে পারবেন না। শিশুটির সার্বিক কল্যাণার্থে হেফাজতে গ্রহণ করার তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দুই লাখ টাকার শিক্ষা বিমা করে তার সমর্থনে কাগজপত্র আদালতে দাখিল করবেন।
শিশুটির নাম ‘মুক্ত’ ঠিক রেখে আগামী সাতদিনের মধ্যে অন্য কোনো ইসলামী নাম ঠিক করে তা আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে হেফাজত গ্রহণকারী দম্পতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। হেফাজত গ্রহণকারীর কাছ থেকে ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি ৫০ হাজার টাকার জিম্মানামা সম্পাদন করে আদালতে দাখিল করার জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন বিচারক।
ঘটনার বিবরণ ও মৌলভীবাজার মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে সকাল ৯টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হিলালপুর এলাকার ফতেপুর ভিলা নামের একটি বাড়ির দেয়ালের ভেতর তীর মিয়া নামের এক ব্যক্তি ঘাস কাটতে গেলে দেখতে পান, একটি নবজাতক জীবিত ছেলে শিশু পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহমদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ জীবিত শিশুটিকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে পুলিশ ২৪ মে মৌলভীবাজার মডেল থানায় জিডি করে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামকে।
শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ওসি সুহেল আহমদ প্রাথমিক দায়িত্ব নেন। ওই দিন সারা দেশে বাল্য বিবাহমুক্ত দিবস ছিল। সে বিষয়টি চিন্তা করে সেই দিন অভিবাবকবিহীন উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির নাম রাখেন মুক্ত।