কাজের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাবো : মাসুদ খান
ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল পুঁজিবাজার নিশ্চিতসহ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়াই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মূল দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় মাসুদ খান এসব কথা বলেন।
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মাসুদ খান বলেন, আপনারা আস্থা রাখুন। আমরা কাজ করছি, এই কাজগুলো আপনারা মূল্যায়ন করবেন। মূল্যায়ন করে আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। এই পুঁজিটা আপনার, এই পুঁজিটা আপনাকেই সংরক্ষণ করতে হবে।
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কয়েক গুণ বেড়েছে জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, এর অন্যতম কারণ বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারবান্ধব। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের ওপর চূড়ান্ত কর ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনার সত্যিকার কর স্ল্যাব যাই হোক না কেন, ফাইনাল কর হচ্ছে ১৫ শতাংশ। যা অনেক দেশে আপনি পাবেন না।
কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই দীর্ঘদিনের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, এতোদিন ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সূচক স্থগিত করেছিল। আমি এখন আপনাদের জানাতে চাই, মরগ্যান স্ট্যানলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে তারা ফের এটাকে চালু করবে। এটিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, শুধু জরিমানা করে বড় ধরনের সিসিএ ঘাটতি মোকাবিলা করা কঠিন। এক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসই-কে ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতি এবং সারপ্রাইজ ইন্সপেকশনের দিকে যেতে হবে। সারপ্রাইজ ইন্সপেকশন হওয়া উচিত এবং নিয়মিত হওয়া উচিত। বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা এআইভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ডিএসই তাদের ব্যবস্থা আপগ্রেড করবে। পরবর্তীতে বিএসইসি এআইভিত্তিক সার্ভিল্যান্সে যাবে।
বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে ডিএসইর সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, বন্ড লেনদেনের অন্যতম বাধা ছিল ফি। ডিএসইর সঙ্গে আলোচনার পর সেই বন্ড মার্কেটের ফি কমানো হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার সোশ্যাল বন্ড বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে তার শর্ত ছিল, বন্ডটি ডিএসইর মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এটা আমাদের প্রধান শর্ত ছিল। এটা হতেই হবে। আগামী এক বছরে মেইন বোর্ডে অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে। এতে মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বন্ড কেনার সুযোগ পাবে।
আইপিও প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, একটি কোম্পানির আইপিও আবেদনে একাধিক পর্যায়ে একই ধরনের প্রশ্ন ও নথি যাচাইয়ের কারণে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে। এ সমস্যা কমাতে নতুন আইপিও বিধিতে এক্সটেন্ডেড অডিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই অডিটের মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ, জমি, যন্ত্রপাতি, পাওনা ও দায়সহ আর্থিক বিবরণীর বাস্তবতা যাচাই করা হবে।
বিএসইসি সরাসরি ইস্যুয়ারকে প্রশ্ন করবে না জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, ভবিষ্যতে ইস্যুয়ার কোম্পানি আইপিও আবেদন ডিএসই বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেবে, তার একটি কপি বিএসইসিকে দেবে। আর্থিক বিবরণী নিয়ে বিএসইসি সরাসরি ইস্যুয়ারকে কোনো প্রশ্ন করবে না। প্রয়োজন হলে প্রশ্ন ডিএসই বা সিএসই করবে।
ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন নিয়ে কাজ শেষ দিকে জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের পর এটি জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। একটা কোম্পানিকে আইপিও প্রসেসে আর যাওয়া লাগবে না। সে একটা সার্টেন শেয়ার পোর্শন অফলোড করে দিলে উনি লিস্টেড হতে পারেন। খুব দ্রুত তিন মাসের মধ্যেই এই কাজটা হয়ে যাবে। ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক