দারুণ বোলিংয়ে তৃতীয় দিনের রাজত্ব বাংলাদেশের
আগের দিনের ভুলের আর কোনো পূনরাবৃত্তি করেনি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে যেমন আলো ছড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ-তাসকিন আহমেদরা, তেমনি ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত ছিলেন সাদমান ইসলামরা। ফলাফল হিসেবে পাকিস্তানের আশা গুঁড়িয়ে ৪০০ রান পেরোনোর আগেই তাদের থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। সবমিলিয়ে তৃতীয় দিনটাও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ রোববার (১০ মে) তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে ১.৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। এতে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪ রান। এর আগে ৩৮৬ রানে থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। আর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৪১৩ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত থেকেই শেষ করেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম (১ বলে ০) আর মাহমুদুল হাসান জয় (১০ বলে ২)।
২৭ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওভারও ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১.৫ ওভার শেষেই আলোকস্বল্পতার কারণে তৃতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। এই সময়ে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।
এর আগে ৯ উইকেটে হাতে রেখে ১৭৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান। ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠে নেমেছিলেন আজান আওয়াইস। ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল।
তৃতীয় দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরি করে অভিষেক টেস্ট রাঙান আজান। তৃতীয় দিনের পঞ্চম ওভারে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এরপর অবশ্য তাকে আর বেশি দূর যেতে দেননি তাসকিন আহমেদ। স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান আজানকে। এতে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৪ রানের জুটি। ফেরার আগে ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেন তিনি।
এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে ছোটখাটো ধ্বস নামায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই তুলে নেয় আরও তিন উইকেট। দ্রুতই ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ (১৭ বলে ৯) আর সৌদ শাকিলকে (৪ বলে ০)। একপ্রান্ত আগলে রেখে অভিষেক টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করা আব্দুল্লাহ ফজলকেও মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ফেরত পাঠান মেহেদী হাসান মিরাজ।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর অবশ্য আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলেন সালমান আলী আঘা আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আবারও তারা শতক ছাড়নো জুটি গড়েন। চা বিরতির ঠিক আগে রিজওয়ানকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৭৯ বলে ৫৯ রান করে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান।
এরপরই মিরপুরে আকাশ ছেঁয়ে যায় কালোমেঘে। শুরু হয় বৃষ্টি। যে কারণে খেলা বন্ধ ছিল প্রায় দুই ঘন্টা। মাঠ শুকানোর পর সোয়া চারটায় আবারো শুরু হয় খেলা। এরপর পাকিস্তানের পরের চার উইকেট তুলে নিতে সময় নেয়নি বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারেই সালমানকে ফিরিয়ে কাজের কাজ সারেন নাহিদ রানা। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে ড্রেসিংরুমে পেরেন সালমান। ৯৪ বলে ৫৮ রান করেন তিনি।
এরপর ৭.৩ ওভারে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেন মিরাজ আর তাইজুল। সালমানকে ফেরানোর উইকেটে এসে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে তাকে বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি মিরাজ। ১৭ বলে ১৩ রান করা আফ্রিদিকে ফিরিয়েছেন মুমিনুল হকের ক্যাচ বানিয়ে।
নিজের পরের ওভারে এসে মিরাজ ফেরান নোমান আলীকে। ২৯ বল খেলে মাত্র ২ রান করে এই তিনি ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। নোমানকে ফিরিয়ে ফাইফার তুলে নেন মিরাজ। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৪তম ফাইফার।
এরপর হাসান আলীকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তাইজুল। ১০ বলে ৬ রান করে ফেরেন হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১১৭.১ ওভারে ৪১৩/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬/১০ (ইমাম ৪৫, আজান ১০৩, আব্দুল্লাহ ৬০, শান ৯, সৌদ ০, সালমান ৫৮, রিজওয়ান ৫৯, নোমান ২, শাহিন ১৩, হাসান ৬, আব্বাস ৬*; তাসকিন ১৮-১-৭০-২, এবাদত ১২-২-৫৪-০, নাহিদ ২১-২-১০৪-১, মিরাজ ৩৮-৫-১০২-৫, তাইজুল ১১.৩-০-৪৬-২)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১.৫ ওভারে ৭/০ (জয় ২*, সাদমান ০*; শাহিন ১-০-২-০, আবআস ০.৫-০-০-০)

স্পোর্টস ডেস্ক