আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল জড়াল মিসর
প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়েছিল মিসর। পিছিয়ে পড়া আলবিসেলেস্তেরা ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। একের পর এক আক্রমণ করছিলেন মিসরের রক্ষণে। বিপরীতে, কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ খুঁজছিল মিসর। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল জড়াল মিসর। ২-০ গোলে এগিয়ে গেল মিসর।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে ১৬তম মিনিটে কর্নার থেকে এগিয়ে যায় মিসর। মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত কর্নার থেকে বক্সের মাঝখানে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালের নিচের ডান কোণে আশ্রয় নেয়।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ২০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পান লিওনেল মেসি। কিন্তু তার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোহামেদ এল-শোবেইর।
এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। ২৮তম মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শক্তিশালী হেড অসাধারণ রিফ্লেক্সে ফিরিয়ে দেন শোবেইর। ৪০তম মিনিটে কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে হুলিয়ান আলভারেজ একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আরও একটি অবিশ্বাস্য সেভ করেন মিসরের এই গোলরক্ষক। অনেকের মতে, মেসির পেনাল্টি ঠেকানোর চেয়েও আলভারেজের শট রুখে দেওয়াটাই ছিল আরও কঠিন।
প্রথমার্ধজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও মিসরের সুসংগঠিত রক্ষণ এবং শোবেইরের অনবদ্য গোলকিপিংয়ের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলের মূল্যবান লিড নিয়েই ড্রেসিংরুমে যায় মিসর।
বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া সহয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। মিসরের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। উল্টো আরও এক গোল হজম করে বসে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোস্তফা জিকো। গোলের কয়েক মুহূর্ত আগে অবশ্য তার আরেকটি প্রচেষ্টা ভিএআরের সিদ্ধান্তে বিল্ডআপে ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি তিনি।
ম্যাচের বাকি সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে আর্জেন্টিনাকে দ্রুত জোড়া গোল শোধ করতে হবে। তা না হলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। সেটি হলে বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী হবে ফুটবল বিশ্ব।

স্পোর্টস ডেস্ক