নীতি সহায়তার কার্যক্রম শুরু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ (এক্সপোজার) সমন্বয়ে নীতি সহায়তার কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আবেদনকৃত দুটি ব্যাংকের এক্সপোজার সমন্বয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন। পর্যায়ক্রমে বাকি ব্যাংকগুলোর নীতি সহায়তায় কাজ করা হবে।
আজ সোমবার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শুভঙ্কর সাহা জানান, এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দুটি ব্যাংকের ধারণকৃত শেয়ার ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে প্রদত্ত ঋণ সাবসিডিয়ারি ক্যাপিটালে রূপান্তরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ব্যাংকসমূহের সোলো ও কনসোলিটেড উভয় ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি ব্যাংক তাদের ধারণকৃত শেয়ার ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে প্রদত্ত ঋণ সাবসিডিয়ারি ক্যাপিটালে রূপান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তাদের এ আবেদন দ্রুত বিবেচনা করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।’
শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘বাকি আটটি ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে। সেসব ব্যাংককে এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক থেকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধি সংক্রান্ত আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর আগে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের প্রয়োজন। এই আবেদন ব্যাংক থেকে আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অনুমোদন প্রদানে কিছুটা সময় লাগছে।’
শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘ব্যাংকসমূহের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ত্বরিত অনাপত্তি প্রদান করা হবে। এ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে একদিকে ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি মূলধন বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা কমে আইনি সীমার মধ্যে নেমে আসছে। এভাবেই সব ব্যাংকই আইনি সীমার মধ্যে চলে আসবে।’
শুভঙ্কর সাহা আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সবাইকে আশ্বস্ত করছে যে, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাংককেই তার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য কোনো শেয়ার বিক্রি করতে হবে না। অধিকন্তু ব্যাংকগুলোর সমস্যার ধরন ভিন্ন বিধায় আলাদাভাবে তাদের নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অধিকতর বিবেচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখার জন্যই এ বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনো সাধারণ সার্কুলার প্রদানের প্রয়োজন নেই।’
দুটি ব্যাংকের মধ্যে কোনো কোনো ব্যাংক এক্সপোজার সমন্বয়ে আবেদন করেছে জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা কোনো উত্তর দেননি।
আইন অনুসারে চলতি বছরের ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয় করার কথা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো নীতি সুবিধা না দিলে ব্যাংকগুলোকে তাদের ধারণ করা শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ সমন্বয় করতে হতো। এতে শেয়ারবাজারে আরো নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা ছিল। এ পরিস্থিতি রোধে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা