বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাণিজ্যে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গত মার্চে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, এমনটিই জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। বুধবার (৬ মে) বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
হালনাগাদ তথ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে দুই দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জুলাই-মার্চে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে তিন দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি হয় ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্ত্বক চার দশমিক ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই সময়ে আমদানি হয় ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় চার দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয় ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। তারা বলছে, রপ্তানি প্রায় চার দশমিক ৫ শতাংশ নেগেটিভ গ্রোথে ছিল। অন্যদিকে, আমদানিতে চার দশমিক ৬ শতাংশ পজিটিভ প্রবৃদ্ধি। এতে ঘাটতি বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় এবং বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকায় দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি এখনও চাপের মধ্যে পড়েনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক