কিছু ব্যাংকে এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি : গভর্নর
কিছু ব্যাংকের বিপুল অর্থ চুরি হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, এসব ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। তাই ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি বলেন, টাকা যারা চুরি করেছে, তাদেরকে শান্তিতে থাকতে দেব না আমরা। টাকা উদ্ধারে ১০টি এজেন্সি কাজ করছে। নানা চেষ্টায় ইতোমধ্যে অনেকেই চিহ্নিত হয়েছে। তাদের কিছু টাকা ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশের পরদিন আজ শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিকেলে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গভর্নর।
ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে কাজ চলছে জানিয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন টাকা পেতে শুরু করেছেন। আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির এমডি নিয়োগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনে কিছু সময় লেগেছে, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোন ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের কাজ বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যক্রমে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে গভর্নর বলেন, আমরা কাউকে ঋণ দিতে বলি না, বদলির জন্য নির্দেশ দিই না। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থির পরিবেশ তৈরির হয়েছিল জানিয়ে গভর্নর আরও বলেন, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক। তাই বোর্ডে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত নতুন নিয়োগ দিতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে কিছু টুলস আছে। প্রয়োজন হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহক।
সামনে ব্যাংকটির কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বোর্ড সজাগ আছে। প্রয়োজনীয় তারল্য সাপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক