চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মূল ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, হঠাৎ করে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে আমরা শিক্ষার্থীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছিল। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান আল সিয়াম বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। আমরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
এদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আবার উপাচার্য পদে বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

কামরুল সবুজ, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা (হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান)