চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, ফৌজদারহাট কলেজে সবাই পেলেন জিপিএ-৫
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শতভাগ পাস করা এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, আনোয়ারা উপজেলার কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম কসমো কলেজ, কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চট্টগ্রাম নগরের লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শতভাগ পাসের এই তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলার দুটি কলেজ। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যেক শিক্ষার্থীই অর্জন করেছেন কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যার বিচারে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ১৩৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়েছেন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো শতভাগ পাসের গৌরবময় সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, আরও অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন এবং প্রত্যেকেই অর্জন করেছেন জিপিএ-৫। অর্থাৎ পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় দিক থেকেই শতভাগ সাফল্য অর্জন করে রেকর্ড গড়েছে ক্যাডেট কলেজটি।
এ অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মো. আবছার উদ্দীন জানান, শিক্ষক হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য। এর আগেও একাধিকবার আমাদের প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও তা সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার বোর্ডের অধীনে ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮০টি কলেজের ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট কম। এ ছাড়া এবার জিপিএ-পাঁচ পেয়েছেন দুই হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় তিন হাজার ১৬৮ জন কম।
ফলাফল মূল্যায়ন নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (প্রেষণ) অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এবারের ফলাফল যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিটি প্রশ্নের নম্বরের সঠিক মূল্যায়নে জোর দিয়েছেন পরীক্ষকরা। ফলে ফলাফলে পরীক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার সঠিক চিত্র উঠে এসেছে।
সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমলেও সীতাকুণ্ডের এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ধারাবাহিক ও ঈর্ষণীয় সাফল্য আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি করেছে পুরো এলাকায়।

এন.এইচ শাওন, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা (মীরসরাই-সীতাকুণ্ড)