‘পুঁজিবাজারে বড় উত্থানের পর পতন স্বাভাবিক’
ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর গতকাল বুধবার দেশের পুঁজিবাজার উত্থান থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আবারও পতনে অবস্থান করেছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন সব ধরনের সূচকের পতনে শেষ হয়েছে লেনদেন। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬০ পয়েন্ট। যেখানে গতকাল ডিএসইএক্স বেড়েছিল ১৬১ পয়েন্ট। অপরদিক আজ ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। সেখানে গতকাল ৯৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছিল। গতকালের হাজার কোটি টাকার লেনদেন আজ ৭৭৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলায় বৈশ্বিক অস্থিরতা শুরু হয়, সেই প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারে পড়েছিল এমনটিই জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, এতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা বেশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। অনেকেই পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ গুটিয়ে ফেলার চেষ্টায় ছিলেন। অনেকেই নতুন বিনিয়োগ থেকে সম্পূর্ণ বিরত ছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা গেছে। যার প্রভাবে দেশের বাজারেও গতকাল বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। উত্থানের একদিন পরই আবারও পুঁজিবাজারে পতন। এতে ভয় পাবার কিছু নেই। এমন অবস্থায় গুজবে না গিয়ে বুঝে শুনে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন তারা।
ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক অস্থিরতা চলছে, সেই প্রভাব বাংলাদেশও পড়েছে জানিয়ে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, এ যুদ্ধের কারনে গত তিন সপ্তাহ ধরে আমাদের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা চলছে। যার প্রভাবে পুঁজিবাজার নিম্ন গতিতে ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার গতকাল বড় ধরনের উত্থান হয়েছিল ডিএসইতে। তিনি বলেন, গতকাল একদিনেই ডিএসইর ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৬১ পয়েন্ট। সূচকটির এতো বড় উত্থানের পর আজ ডিএসইএক্স ৬০ পয়েন্ট কমেছে। এই ধরনের উত্থানের পর এমন পতন হওয়াটা স্বাভাবিক। এটাকে বাজার কালেকশন হিসেবে দেখছি- বলে জানান তিনি।
ইরান যুদ্ধের ভয় এখনও কাটেনি জানিয়ে ডিএসইর শেয়ারধারী পরিচালক ও বিএলআই সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। তবে যুদ্ধ থামেনি। যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় গতকাল পুঁজিবাজার সূচকের বড় ধরনের উত্থান হয়েছিল। সেই হিসেবে আজকের পতন অনেকটাই নরমাল বিষয়। এতে ভয়ের কিছু নেই। তবে শেয়ার বেচাকেনার করার ক্ষেত্রে সকর্ত হতে হবে বিনিয়োগকারীদেরকে। তিনি বলেন, গতকালের উত্থানে অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে মুনাফার উদ্দেশে আজ অনেকেই শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে বাজার পতন হবে, এটা স্বাভাবিক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে ডিএসইএক্স বড় পতনে চলে আসে। লেনদেন শুরুর সাত মিনিটে ডিএসইএক্স পতন হয় ৬১ পয়েন্ট। বেলা বাড়ার পর সূচকটির পতন গতি কমে আসে। লেনদেন শুরুর ২২ মিনিটে ডিএসইএক্স পতন হয় আট পয়েন্ট। পরে সূচকটির পতন ফের কমে। এদিন লেনদেন শেষে ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৬০ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। সূচকটি কমে দিনশেষে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২৫৭ দশমিক ৭০ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইএস সূচক ১২ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৬৩ দশমিক ১৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস ৩০ সূচক ২৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় দুই হাজার দুই দশমিক ২০ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার। গতকাল বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গতকাল বুধবার মূলধন ছিল ছয় লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আজ লেনদেন হওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ৩০৬টির এবং শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির। আজ লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে একমি পেস্টিসাইডের ২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, লাভেলো আইসক্রিমের ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ডমিনেজ স্টিলের ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং সিটি ব্যাংকের ১৯ কোটি ৭১ রাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এদিন দর কমার শীর্ষে উঠে এসেছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির দর কমেছে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। দর বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকসের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে আট দশমিক ৪৫ শতাংশ।

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান