পাঁচ ব্যাংক একীভূত, শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ-অনিশ্চয়তা
দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া এসব বিনিয়োগকারীদের মালিকানা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব থেকে রেহাই দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ৷
দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মমিনুল ইসলাম এসব দাবি করেন। প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন৷
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পুঁজিবাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করা।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল রিয়েল টাইম গ্রস স্যাটেলমেন্ট সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, স্যাটেলমেন্ট সাইকেল টি+২ থেকে টি+১ এ রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা, ডিএসইর বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ ধাপে ধাপে নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিটা হিসাব সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আইপিও ও বন্ড মার্কেটভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থা, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু এবং স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট অ্যাক্সেস সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।
এছাড়া দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক) একীভূত করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধিদল জানায়, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এসময় প্রতিনিধিদল ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়৷ প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন৷

নিজস্ব প্রতিবেদক