ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য : বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা
সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে বাণিজ্য, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
ইকোনমিক টাইমস-এর খবরে বলা হয়, এরই মধ্যে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা হয়েছে। আর আসামের গৌহাটিতে বাংলাদেশি ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা আইএনএসকে জানিয়েছেন, আসামের গৌহাটিতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন স্থাপনের বিষয়ে ঢাকার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আগরতলার মিশনও আরো সময়োপযোগী করে তোলা হবে।
ভারতের নয়াদিল্লি, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। আর বাংলাদেশ খুলনা ও সিলেটে ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনের অনুমতি দিয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাণিজ্য, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের ত্রিপুরা ও অন্য রাজ্যগুলোতেও বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। রাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে গত অর্থবছর পর্যন্ত আগরতলায় ঢাকার বাণিজ্য বেড়েছে ২০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) এর পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়াবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আইএনএসকে জানিয়েছেন।
এর আগে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামে বিদ্যমান ২৭টি কাস্টমস কেন্দ্র সময়োপযোগী করে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ও বাংলাদেশ।
ত্রিপুরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এম এল দেবনাথ আইএনএসকে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরো বাংলাদেশি মিশন স্থাপন করা হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরো অগ্রগতি হবে।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে গত ৬-৭ জুন ঢাকায় নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার মধ্যে আলোচনা হয়।
এরই মধ্যে দুই দেশের স্থলসীমান্তে চারটি সীমান্তহাট স্থাপন করা হয়েছে। এতে মেঘালয় ও ত্রিপুরার স্থানীয় পর্যায়ের বাণিজ্যেও গতি এসেছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এক হাজার ৮৮০ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ত্রিপুরা ৮৫৬ কিলোমিটার, মেঘালয় ৪৪৩ কিলোমিটার, মিজোরাম ৩১৮ কিলোমিটার ও আসামের সঙ্গে ২৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

অর্থনীতি ডেস্ক