উৎপাদন কম, তাই বাড়ছে ডিমের দাম
ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংগঠন বাংলাদেশ এগ প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবমতে দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি ডিমের চাহিদা আছে। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র দুই কোটি। ডিমের পাইকাররা বলছেন, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় ডিম অনেক কম আসছে। এ ছাড়া বাড়তি দামেই খামারগুলো থেকে ডিম কিনতে হচ্ছে তাঁদের।
urgentPhoto
বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। রাজধানীর বাজারে এক মাস আগেও ফার্মের ডিমের হালি বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। যা এখন ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় ঠেকেছে। অন্যদিকে হাঁসের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়।
এ ব্যাপারে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ বলেন, ‘আগে প্রতিদিন আড়াই লাখ থেকে তিনলাখ ডিম আসত। গতকাল এসেছে মাত্র ৬০ হাজার ডিম। আজ হয়তো এক লাখের ওপর আসবে। চেষ্টা করেও ডিম সংগ্রহ করতে পারছি না, ডিম নেই। উৎপাদন একেবারেই কম।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে খামারগুলোতে লেয়ার মুরগির সংখ্যাই কমে গেছে- তাই ডিম উৎপাদন হচ্ছে কম। কারণ দুই মাস আগেও ডিমের দাম বেশ কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় অনেক খামারি লেয়ার মুরগি বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণেও অনেকে মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে, আগামী এক থেকে তিন মাসের মধ্যে খামারগুলোতে আবার লেয়ার মুরগির সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ফজলে রহিম খান বলেন, ‘মার্চ ও এপ্রিল এ সময়টায় ডিমের উৎপাদন খরচ যা ছিল, প্রান্তিক খামারিরা এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। এজন্য তাঁদের সব মুরগি লোকসান করতে না পেরে বিক্রি করতে হয়েছে। জোগানের ক্ষেত্রে একটা ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদারকি করা প্রয়োজন যেন নির্দিষ্ট পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত থাকে।’

হাসানুল শাওন