কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ পরিমাণ গত অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এ ঋণ বিতরণে বার্ষিক নীতিমালাও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আজ রোববার এ নীতিমালা ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।
ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে কৃষক ও খামারিরা শস্য ও ফসল আবাদে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট ও সিআইবি ইনকোয়্যারি ছাড়াই আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। নতুন নীতিমালায় আম-লিচুর পাশাপাশি পেয়ারা উৎপাদনেও সারা বছর ঋণ পাবেন চাষিরা।
দেশের সব বেসরকারি ব্যাংককে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে নিজস্ব শাখা বা এজেন্টের মাধ্যমে বিতরণ করতে হবে। তবে এজেন্টরা গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ দশমিক ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ (ভ্যাটসহ) আদায় করতে পারবেন।
চলতি অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক নয় হাজার ২৯০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য আট হাজার ২৬০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ বিতরণ হয় ১৭ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যামাত্রার ৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে খাদ্যশস্য উৎপাদনে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মুরগি পালন ও মাছ চাষের ঋণ।
গত অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল নয় হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত ছিল সাত হাজার ১১০ কোটি টাকা।
এবারের ঘোষিত কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘গুণগত মান বজায় রাখতে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ৫৫টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৫টি ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে। তবে ১০টি ব্যাংক করতে পারেনি। যে পরিমাণ অর্থ তারা অর্জন করতে পারেনি তাদের থেকে সেই পরিমাণ অর্থ কেটে রাখা হয়েছে। পরবর্তী বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।’
এস কে সুর চৌধুরী আরো বলেন, ‘এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সহায়তা নিতে পারে। তাতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রামগঞ্জে তাদের নতুন শাখার প্রয়োজন হবে না।’
এ সময় আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান ও এস কে সুর চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা