এলপি গ্যাসের সংকট না কাটলে রেস্তোরাঁ বন্ধের হুঁশিয়ারি
দেশে এলপি গ্যাসের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। ট্রেড ইউনিয়নের নামে হয়রানি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অভাব ও নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের বিস্তারে দেশের রেস্তোরাঁ খাত সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলপি গ্যাসসহ এই খাতের অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে সব রেস্তোরাঁ বন্ধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের কথা বলে রেস্তোরাঁ খাতে এলপি গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হতো। সেইসঙ্গে বেশকিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলার যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজির ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই সিন্ডিকেট বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির কিছু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। ফলে অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ ব্যবসার খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে কর্মজীবী ও স্বল্প-মধ্যম আয়ের মানুষ রেস্তোরাঁ– নির্ভর হওয়ায় খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না রেস্তোরাঁ মালিকেরা। ফলে অনেক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী লোকসানে পড়ছেন। আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদের ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য কমানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। অপরদিক দেশের ৭০ শতাংশ স্ট্রিট ফুডের দোকান অনিবন্ধিত। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নিয়ম-নীতি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি করছেন। এসব দোকান থেকে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে তার প্রতিফলন নেই। বিগত সরকারের আমল থেকে দেশের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কমলেও ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ফের বেড়েছে।
সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা না গেলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হবে। এই খাতে নীরব চাঁদাবাজি চলছে। এর প্রভাব পড়ছে খাবারের দামের ওপর। এছাড়া বড় বড় করপোরেট ব্যবসায়ী রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নামার পরিকল্পনা করছে। তারা এই খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক