লেবুর হালির শতক পার, শসা-বেগুনেও সেঞ্চুরি
লেবুর শরবত অত্যন্ত সতেজ ও স্বাস্থ্যকর পানীয়। ক্লান্তি দূর করতে, শরীরের পানি শূন্যতা মেটাতে এবং ভিটামিন সির চাহিদা পূরণে এটি চমৎকার কাজ করে। শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে এ পানীয় খুবই কার্যকর। লেবুর শরবত তাই ইফতারে চাহিদার শীর্ষে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই রোজায় সেই লেবুর দামে আগুন লেগেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে লেবুর হালি এখন সেঞ্চুরি পার করেছে। একই সঙ্গে তাল মিলিয়ে দামের ক্ষেত্রে সেঞ্চুরি পার করেছে শসা, বেগুনসহ কাঁচামরিচও।
এবারে রোজার শুরুতেই দামের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে লেবুর দাম। কিছুদিন আগেও ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি হালি লেবু বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে হালি প্রতি সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবারের রোজায় লেবুর সঙ্গে শসা ও বেগুনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে শসা ও বেগুনের দাম প্রতি কেজিতে সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি ১৫০ টাকার কোঠায় উঠে এসেছে। অবশ্য পটল, ঢেঁড়শ ও করলাও এখন ১৫০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। এই তিন সবজির দাম গত মাসেও একশ টাকার ঘরে ছিল।
আজ বৃহস্পতিবারবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাপ্তানবাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে যেখানে খুচরা সবজির দোকানে লেবু প্রতি হালি বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ৩০ টাকায়, এখন সেই লেবু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায়। গত মাসেও যে শসার প্রতি কেজির দাম ছিল ৫০ টাকা, এখন সেই শসার দাম ১০০ টাকা। এখন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। তবে বাজারে লম্বা ও গোল বেগুনের দামে ভিন্নতা রয়েছে। এখন প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায়। এখন গাজর প্রতি কেজি বেচা হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। বাজারে এখন লাউ ও চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার মধ্যে। মিষ্টি কুমড়ার প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। লতি, চিচিঙ্গা, কচু ও পেঁপের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং ফার্মের মুরগি আকার ভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুল বাজারে সবজি ব্যবসায়ী নাজির হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম ওঠানামা করে, তবে এবারে হাতে গোনা তিন-চারটি বাদে সব সবজির দাম বাড়েনি। এবারে লেবু ও শসার দাম বাড়তি জানিয়ে তিনি বলেন, তবে সামনে লেবুর দাম কিছু কমবে। চাহিদা বাড়ায় এখন বেগুনের দাম বাড়তি। অপরদিক মৌসুম না থাকায় পটল, ঢেঁড়স ও করলার দাম আগে থেকেই বাড়তি।
হাতিরপুল বাজারে কথা হয় সবজি ক্রেতা নাসরীনের সঙ্গে। রোজায় লেবুর শরবত সবাই পছন্দ করে জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েদিন আগেও বড় সাইজের লেবু হালি ছিল সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। সেখানে এখন ১০০ টাকার ওপরে কিনতে হচ্ছে। বড় সাইজের লেবুর হালির দাম ১২০ টাকার ওপরে। এমন হলে কিভাবে সংসার চালাবো। কিছুদিন আগে যে বেগুন কিনেছি ৬০ টাকায়, এখন সেই বেগুন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।
লেবুর সরবারাহ কম জানিয়ে কাপ্তানবাজারের সবজি ব্যবসায়ী রাসেল উদ্দিন বলেন, বছর জুড়ে পাওয়া গেলেও লেবুর প্রধান মৌসুম হলো গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকালের শুরু। অপরদিক রোজায় এমনিতেই লেবুর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তবে সরবরাহ কম থাকায় লেবুর দাম এখন বেশি। অন্যদিকে শসা, বেগুন ও কাঁচামরিচের দামও বাড়তি। বাজারে এখন এই তিন সবজির চাহিদা বেশি। কিছুদিন আগেও এই সবজিগুলোর দাম কম ছিল।
সরবরাহ কম থাকায় অনেকদিন ধরেই পটল, ঢেঁড়শ ও করলার দাম চড়া জাানিয়ে একই বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা ইয়াকুব বলেন, পাইকারদের কাছ থেকে যে দামে লেবু কেনা হয়েছে, তার থেকে সামান্য লাভেই বিক্রি করছি। এখন প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে লেবুর জাত হিসেবে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
কাপ্তানবাজারে কথা হয় ক্রেতা আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত মাসে যে লেবু কিনেছি ৩০ টাকা হালিতে এখন সেই লেবুর হালি ১২০ টাকার ওপরে। কোথাও কোথাও ১৩০ টাকাও চাচ্ছে। একই সঙ্গে হঠাৎ করে দেখছি, ১০০ টাকার ওপরে কিনতে হচ্ছে বেগুনসহ শসা। যা আগের মাসে ৬০ টাকার নিচে কিনেছি।

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান