রাজস্ব কাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন জরুরি : ডিসিসিআই
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের নূন্যতম সীমা পাঁচ লাখ টাকা করা, জিডিপিতে করের অবদান বৃদ্ধিতে রাজস্ব কাঠমোর অটোমেশন, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ এবং কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনসহ ৫৪টি প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আগারগাঁয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য আয়কর, মূসক এবং আমদানি শুল্ক খাতে ঢাকা চেম্বারের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী এসব প্রস্তাব দেন।
আলোচনা সভায় সভাপত্বিত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এতে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালক এম মোসাররফ হোসেন, ইঞ্জি. মোস্তফা কামাল ও রাশীদ মাইমুনুর ইসলাম।
প্রস্তাবনা উপস্থাপনের শুরুতেই ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ ও করের বোঝা হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়গুলোকে এ বছর ডিসিসিআই জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণে হার বৃদ্ধি পাবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য এই সংগঠনটি।
বৈঠককালে ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারি সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন, কোম্পানির আমানতের উৎসে সুদ হার ২০ শতাংশ হতে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোম্পানির নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরোক্ষ রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল ও ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তনসহ সামগ্রিক মূসক কার্যক্রমে অটোমেশনের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআইর এ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
ঢাকা চেম্বারের বাজেট প্রস্তাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বছরের বাজেটে এনবিআর, শুল্কের হার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, উদ্যোক্তাদের স্বস্তি আসবে পাশাপাশি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ওপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর বদ্ধপরিকর, এ ব্যাপরে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাটের থ্রেসহোল্ড গতবছর তিন কোটি টাকা হতে ৫০ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র আট লাখেরও কম, আমাদের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচারে এ সংখ্যা কোটির বেশি হওয়া উচিত।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, কর্পোরেট করের হার ৫০ শতাংশ হতে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বর্তমানে ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নামিয়ে আনা হয়েছে। এটিকে আরও হ্রাসের আসলেই তেমন সুযোগ নেই, তবে ইফেকটিভ করের হার যেন না বাড়ে তার ওপর বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি। আগামী বছর হতে কর্পোরেট করের রিটার্ন অনলাইনে প্রদান প্রক্রিয়া চালু হবে পাশাপাশি কর ফেরত (রিফান্ড) প্রদানের ব্যবস্থা অনালইনে নিশ্চিতের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক