কর সুবিধাসহ কাঁচামাল আমদানিতে করারোপের ভিন্নতা পরিহার চায় বিসিআই
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের জন্য বিশেষ কর সুবিধা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য করারোপের ভিন্নতা পরিহারসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ চেম্বার। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত প্রস্তাবনায় বিসিআইর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্লাস্টিক উৎপাদনের কমপ্লিট মোল্ড আমদানি করলে তা ক্যাপিটাল মেশিনারি হিসাবে গণ্য। এর জন্য শুধুমাত্র কাস্টমস ডিউটি এক শতাংশ, অপরদিকে এই একই মোল্ড তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে এটি, এআইটি ও ভ্যাট বাবদ ৩০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের উদীয়মান উদ্ভাবনী শক্তি সম্পন্ন উদ্যোক্তারা শিল্প ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হবেন।
এসএমই খাতের বিকাশের জন্য পৃথক করহার নির্ধারণ করা প্রয়োজন। টার্নওভার কর হ্রাস করা হলে এসএমই ব্যবসায়ীরা করের আওতায় আসতে উৎসাহিত হবে। দেশীয় উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করতে কাঁচামালের উপর ভ্যাট ও শুল্কহ্রাস করা প্রয়োজন। এসএমই খাতের জন্য ভ্যাটের ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হলে, এই শিল্পের বিকাশ হবে। একইসঙ্গে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। ভ্যাটের সব হারের ক্ষেত্রে এই ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। তাছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের জন্য বাজেটে বিশেষ তহবিল গঠন করার প্রস্তাব করেন।
ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়, ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাত ভিত্তিক যৌথ রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভাগ ভিত্তিক ২ থেকে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন সাপেক্ষে বন্ডেড-ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রদান করাসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য কর পরিপালন সহজকরণ এবং কর নেটের আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য কর নির্ধারণ ও আয়কর পরিগণনা প্রক্রিয়া সহজকরণেরসহ মাইক্রো, কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে সব ধরনের ইউটিলাইটির উপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেন তিনি।
এছাড়া সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমানো, রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর কমানো, উপযুক্ত ভিত্তি ছাড়াই ২১২ ধারায় মামলা পুনঃউন্মোচন বন্ধ করার নির্দেশনা, করের আওতা বৃদ্ধি ও করের জিডিপি রেশিও বাড়ানোসহ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ১২৭ মোতাবেক সুদ আরোপের বিধান স্পষ্টীকরণ করার প্রস্তাব করেন বিসিআইর এ সভাপতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক