সবাইকে বাজেটের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে, প্রত্যেকটি নাগরিককে নিয়ে- তাদের জীবনযাত্রার মান ও ভবিয্যৎ সব সময় বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। এবারে বাজেটে চেষ্টা করেছি, প্রতিটি মানুষকে আমাদের বাজেট চিন্তায় নিয়ে আসার জন্য। কোনো শ্রেণিপেশা, ধর্ম, বর্ণ কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমার মনে হয় না।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশের পরদিন আজ শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিকেলে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের সত্যিকার যে কার্যক্রম, যেটা জনগণের চিন্তার প্রতিফলন হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা বিগত দেড় দশক ধরে জনগণ মিস করেছে। বাজেট বলতে মূলত আমরা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের কথা বলি। আমাদের সংবিধানও সেই কথা বলেছে। তাই জনগণের ইচ্ছা ও সম্মতিতে দেশ চালাতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেছেন, সরকারি কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধির সাথে দুর্নীতি কমবে। ব্যবসা সহজ করা, বন্দরে দুর্নীতি রোধ ও দীর্ঘমেয়াদি কেনাকাটায় আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো যাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন আমির খসরু মাহমুদ। একইসঙ্গে বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। যা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা যোগারের পরিকল্পনা সরকারের।
মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী ও বিকেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বৃহস্পতিবার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এ বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থান ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন, যেখানে উদ্যোগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে, পরিশ্রমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। বাজেট সংসদ অধিবেশনে পেশ করার আগে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন দেয় বিশেষ মন্ত্রিসভা।

নিজস্ব প্রতিবেদক