তিন মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশই বহাল
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বজায় থাকাসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরগতির হওয়ায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী তিন মাসের জন্য নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪৪তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি সাত দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। জুন মাসের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে নেমে আগস্টে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে আট দশমিক ২৬ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে সাত দশমিক শূন্য দুই শতাংশে নামলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ দশমিক ৩২ শতাংশের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় এবং জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই এ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে সুদের হার কমালে বাজারে তার উল্টো প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি এখনও মন্থর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও শেষ প্রান্তিকে তা ছিল মাত্র দুই দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র চার দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে জুন শেষে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যাংক খাত সংস্কার ও সুশাসন জোরদারের তাগিদ দেয়।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে কেবল মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বন্ধ কারখানাগুলো চালুর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং রপ্তানি খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু রয়েছে।
বাহ্যিক খাতের চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। গত অর্থবছর শেষে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসে ছয় দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। সম্প্রতি রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা অর্থনীতিতে স্বস্তি দিচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিজস্ব প্রতিবেদক