শিক্ষা কার্যক্রম সহজ করতে মোবাইল-ওয়েব অ্যাপ আনছে ঢাবি
শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা আনতে এবং বিভাগীয় কার্যক্রমকে আরো সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কোনো বিভাগ হিসেবে প্রথমবারের মতো মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগ। বিভাগের অভ্যন্তরীণ শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় করাই মূলত এর উদ্দেশ্য।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় নির্মিতব্য এই অ্যাপটি দিয়ে অনলাইনে পাঠদান, পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বিভাগীয় সেবা প্রদান ত্বরান্বিত করাসহ নানা ধরনের কাজ করা যাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য এই অ্যাপে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ফিচার।
এমআইএস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অ্যাপটি নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বিভাগের অন্য শিক্ষকরা।
অ্যাপের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের বিভাগে নিজস্ব শক্তিশালী সার্ভার রয়েছে। আর অ্যাপটির ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে সুসংগঠিত ডাটাবেজ সিস্টেম। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের একটি পেপারলেস অ্যাকাডেমিক সিস্টেম উপহার দেওয়ার আশা করছি।’
কবে থেকে অ্যাপটি পূর্ণাঙ্গরূপে পাওয়া যাবে, জানতে চাইলে অধ্যাপক রাকিবুল বলেন, ‘বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষে পুরোপুরি ব্যবহারের জন্য জুলাই মাসেই অ্যাপটি প্রস্তুত হবে ইনশাআল্লাহ।’
অ্যাপের শিক্ষার্থীবান্ধব দিকটি তুলে ধরে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে যাচ্ছে এই অ্যাপ। পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফল জানতে আর নোটিস বোর্ডের সামনে ভিড় করা লাগবে না, অ্যাপেই দেখা যাবে। এ ছাড়া এই অ্যাপে একটি প্রেডিকটিভ অ্যানালাইসিস টুল থাকবে, যা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ট্রেন্ড পর্যালোচনা করে তাদের সামগ্রিক মানোন্নয়নের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারব।’
বিশ্বব্যাপী রুদ্ররূপ ধারণ করা করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটির মাঝে নতুন অ্যাপ আনার ঘোষণা দিতে পেরে অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছেন জানিয়ে বলেন, ‘করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। যদি কার্যক্রমটি নিজেদের বিভাগীয় অ্যাপের মাধ্যমে করা যায়, বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তা আমার জন্য খুবই তৃপ্তিদায়ক। বিভাগীয় কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ সুশৃঙ্খল এবং পেপারলেস করার মাধ্যমে আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে ধন্যবাদ আমাদের স্বপ্নপূরণে পাশে থাকার জন্য।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা