ময়লা-আবর্জনা ফেলে জাবির পরিবেশ দূষণ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে ময়লা-আবর্জনায়। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অসচেতনতায় ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ময়লায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশও।
ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া ময়লা-আবর্জনা, পানির বোতল, প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক, বিভাগ ও সংগঠনগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পর ফেলা খাবারের প্যাকেট, দোকানদারদের ফেলা আবর্জনায় প্রতিনিয়ত নোংরা হচ্ছে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস পরিষ্কারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের থাকলেও তারা ঠিকমতো সেই কাজ করছে না বলে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

ক্যাম্পাসে গিয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি চত্বরে জমে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অমর একুশে ভাস্কর্য, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও বটতলা এলাকাসহ সব রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে আছে কাগজ, পলিথিন, চিপসের মোড়ক, কোমল পানির বোতলসহ নানা আবর্জনা। বিভিন্ন ঝোপঝাড়েও আবর্জনার স্তূপ জমে উঠতে দেখা গেছে। অতিথি পাখি অবস্থান করা লেকগুলোর পানিতেও ভাসছে বোতল-প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন আবর্জনা। কয়েকটি লেকের পাড়ে দেখা গেছে আবর্জনার স্তূপ।
এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে অর্ণপ দত্ত নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এত সুন্দর ক্যাম্পাস দিনে দিনে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এটা মানতে পারছি না। ক্যাম্পাস এখন পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই ক্যাম্পাস বেশি নোংরা হচ্ছে। এটা থামানো উচিত। আর আমাদেরও আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা নুরুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থী ও বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের ফেলা ময়লা দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পরিষ্কার করতে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। আমাদের পর্যাপ্ত জনবলও নেই। অন্ততপক্ষে আরো ১০ জন সুইপার থাকলে ক্যাম্পাসটা পরিষ্কার রাখা যেত।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লোকজন বাসা-বাড়ি ও দোকানগুলো থেকে নিয়মিত আবর্জনা নিচ্ছে না জানালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কো-অর্ডিনেটরকে নিয়ে বসব, কেন তারা ময়লা নিয়মিত নিচ্ছে না।’


জাবি সংবাদাতা