সন্ধ্যায় কাজ করেছেন নাটকে, ভোররাতে মৃত্যু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি মারা যান।
মৃত ওই শিক্ষার্থীর নাম আবু সাইদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশৈংকল উপজেলায়।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে নাটকের অভিনয় শেষে অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে আবু সাইদ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার একটি দোকানে খাওয়া-দাওয়া করেন। খাওয়া শেষে বিভাগে এসে সাইদ জানান দুই প্লেট ভাত খাওয়ায় তাঁর পেট জ্বলছে। এ সময় সাইদ নিজের কাছে থাকা একটা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান। অবস্থার উন্নতি না হলে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানে তাঁকে একটা ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রায় ঘণ্টাখানে মেডিকেল সেন্টারে থাকার পর সাইদ ও তাঁর বন্ধুরা বিভাগে ফিরে আসেন।
সাইদের সহপাঠীরা জানায়, দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সাইদ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘নির্বাসনে দণ্ড’ নাটকটি প্রদর্শন হয়। সেখানে সাইদের অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু সাইদ অসুস্থ থাকায় তিনি প্রোডাকশনে কাজ করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নাটক শুরু হয়, সাড়ে ৮টায় শেষ হয়।
এরপর সাইদ আবারও জানান, তাঁর ভালো লাগছে না। এ সময় তাঁকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান চিকিৎসক তাঁর আগের ব্যবস্থাপত্র দেখে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
সহপাঠীরা আরো জানায়, রামেক হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তিন ধরনের টেবলেট দেন। সঙ্গে একটা ইনজেকশন। ইনজেকশন ও ওষুধ খাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে সাইদ ঘুমিয়ে যান। এর মধ্যে তিনি দুই-তিনবার জেগে উঠেন। রাত ৪টার দিকে হঠাৎ সাইদের অদ্ভুত শব্দে তাঁর সহপাঠীরা জেগে উঠে দেখেন তিনি বমি করছেন। এর মধ্যে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে একটা ইনজেশন আনতে বলেন। কিন্তু ইনজেকশন আনার আগেই সাইদ মারা যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাট্যকলা বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে বলে ডেথ সার্টিফিকেটে বলা হয়েছে।’
বেলা ১১টার দিকে আবু সাইদের লাশ ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

রাবি সংবাদদাতা