মাকসুদ কামালদের বিরুদ্ধে নীল দলের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট নির্বাচনে নীল দলের দুটি প্যানেল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। নীল দলের কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নাজমা শাহীনের নেতৃত্বাধীন প্যানেল অভিযোগ করেছে, নীল দল দাবি করা স্বতন্ত্র প্যানেলটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
স্বতন্ত্র প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। মাকসুদ কামালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন নাজমা শাহীনের নেতৃত্বাধীন শিক্ষকরা। গতকাল রোববার করা ওই লিখিত অভিযোগে ৩৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘নীল দলের প্রার্থী ব্যতিরেকে অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নীল কাগজ ব্যবহার করতে পারবেন না। এই প্যানেলের সঙ্গে নীল দলের কোনো রকম সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার কৌশল স্বরূপ নব্য এই স্বতন্ত্র প্যানেলের আবির্ভাব ঘটেছে। যারা নিজেদেরকে নীল দল বলে দাবি করছে।’
অভিযোগে আরো বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নীল দল একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এ দলের ভূমিকা অপরিসীম। দীর্ঘদিন নীল দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রচার-প্রচারণায় নীল কাগজ ব্যবহার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন সিনেট নির্বাচনেও নীল কাগজ তাদের প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষক এ নির্বাচনে স্বঘোষিত প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রচার-প্রচারণায় নীল কাগজ ব্যবহার করে আমাদের ঐতিহ্যগত গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, যা আমাদের নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।’

ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন নীল দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুর রহিম। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘নীল দলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন কোনো কমিটি দেয়নি। যে কারণেই এভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। আর নীল দল কোনোভাবে নিবন্ধিত না। তাই এই ধরনের অভিযোগ করার কোনো অধিকার নেই তাদের।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীল দলের মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘নীল দল একটাই। আর এ দলটি ১৯৭৪ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছে। নতুন করে যাঁরা নীল দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন, তাঁরা স্বতন্ত্র প্যানেলে নির্বাচন করছেন। এ জন্য তাঁরা নীল প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। এবং নীল দলের প্যাডও ব্যবহার করতে পারেন না। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের বরাবর আবেদন দাখিল করেছি।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা