বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে, অভিমত বিশ্লেষকদের
২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। এ জন্য শুধু বাজেট বরাদ্দ নয়, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি’ আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টারের পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ। সেন্টারের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান, অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম।
ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেট তিন লাখ ৪৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ধরা হয় তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। প্রতিবছর বড় বাজেট প্রস্তাব করে বছর শেষে তা পূর্ণ বাস্তবায়ন না করার গতানুগতিক রীতি এই অর্থবছরেও বহাল রয়েছে। বাজেটে বরাদ্দ দেওয়াই শুধু নয়, বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা ও সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে।
২০১০-১১ অর্থবছর থেকে বর্তমান অর্থবছর পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়নের হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ৯৭ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছিল, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দের ৮০ ভাগ ব্যয় করা গেছে।
সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক আরো বলেন, সরকার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার মেটাতে পরোক্ষ কর ও ভ্যাটের বোঝা চাপাচ্ছে। কিন্তু প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না।
ড. এম আবু ইউসুপ বলেন, বিপুলসংখ্যক সম্পদশালী লোক যথার্থভাবে কর দিচ্ছে না। তাদের করের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য বিবিধ প্রত্যক্ষ কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স ও ক্যাস্টমস বিভাগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সার্বিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে সুচিন্তিত ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ড. আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি, সক্ষম জনশক্তির অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। এ বাধা দূর করতে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
আলোচনায় অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন বলেন, এই সেন্টার বাজেট নিয়ে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করে। বাজেট-পূর্ববর্তী সুপারিশ ও পরবর্তী সময়ে বাজেট নিয়ে পর্যালোচনা করে থাকে। বাজেটে যে শিক্ষা ব্যয় করা হয়, সেটা হচ্ছে বিনিয়োগ। শিক্ষা ও গবেষণায় যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তার সুষ্ঠু ব্যয় করা হয় কি না, নিশ্চিত করতে হবে।
১৫ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে এত সমালোচনা সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রী মোটেও সরে আসেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ করাটা খুবই অনৈতিক। এতে সরকারের বেশি আয় হবে না। জনগণের স্বস্তি পেতে এটা তুলে দেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা