সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’
সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬ এর ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন’ বিভাগে বাংলাদেশের একমাত্র চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ পরিচালিত ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ (সাঁকোটা দুলছে)। আগামী ১২ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনের সাংহাই শহরে এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে।
পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তরুণ এই পরিচালকের এটিই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এতে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক।
বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মগডোর ফিল্ম’র যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এটি প্রযোজক মনোজ কুমার ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটিরও প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক নির্মাণযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। তিনি সহযোগী প্রযোজক হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট চলচ্চিত্রটির কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মূলত গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। গল্পে কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা নারীদের সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্রামীণ বাস্তবতার আঙ্গিকে নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেছে সিনেমাটি।
এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। এই চলচ্চিত্র সেই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষদের জীবন ও অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
চলচ্চিত্রটির বিষয়ে প্রযোজক মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।

রোহান চিশতী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়