ইবির ডায়েরি থেকে বাদ পড়ল জিয়াউর রহমানের নাম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এ বছরের পকেট ডায়েরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর কার্যালয়ে ২০১৭ সালের ডায়েরি প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সেলিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর যত ডায়েরি প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে জিয়াউর রহমানের নাম ছিল। তবে ১৯৯৮ সালে আধ্যাপক কায়েস উদ্দিন উপাচার্যের দায়িত্বে থাকার সময় জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দিয়ে ডায়েরি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবির মুখে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে পুনরায় ডায়েরি প্রকাশ করা হয়।
ইবিতে সর্বশেষ ২০০৯ সালে পকেট ডায়েরি প্রকাশিত হয়। নানা জটিলতায় গত সাত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ডায়েরি প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার নাম বাদ দিতেই গত সাত বছর ধরে ডায়েরি প্রকাশ করা হয়নি। জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দিয়ে এবার ডায়েরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি স্লোগান যুক্ত করা হয়েছে। সেটি হলো, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস প্রশাসক ও পকেট ডায়েরি প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ডায়েরি প্রকাশ কেন বন্ধ ছিল তা আমি বলতে পারব না। উপাচার্য স্যারের কথা মতো ইবির ডায়েরি প্রকাশ করা হয়েছে।’

ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘ডায়েরি থেকে প্রতিষ্ঠাতার নাম মুছে দেওয়া মানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে দেওয়ার বহিঃপ্রকাশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে অতিদ্রুত শহীদ জিয়ার নামসহ পুনরায় ডায়েরি প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘দেশের অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি যেভাবে প্রকাশ করা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিও সেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।’
আজ বেলা ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের ডায়েরির প্রকাশের উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ড. সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রর এস এম আবদুল লতিফ, তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আতাউল হক।
১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী এলাকার শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক স্থানে ইবির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকাশনা ও ডায়েরিতে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ করা হতো।

ইবি সংবাদদাতা