৫৭ ধারা বাতিল, নাজমুলসহ সব সাংবাদিকের মামলা প্রত্যাহারের দাবি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। আজ শনিবার সমিতির সভাপতি ফরহাদ উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক ফররুখ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
সাংবাদিক নেতারা যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইনসহ গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
সংবাদ বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, আইন প্রণয়ন করা হয় মানুষের অধিকার সুরক্ষা, নিপীড়িত, নির্যাতিত, নিগৃহীত ও নিষ্পেষিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শোষকের হাত থেকে শোষিতকে রক্ষার জন্য। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। আইন প্রণয়নে অস্বচ্ছতা, আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে একটি মহল সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এ হয়রানি থেকে দেশের গণমাধ্যমকর্মীরাও বাদ যাচ্ছেন না।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি আইনটি সংশোধন করে ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর থেকে সমালোচনা শুরু হয়। কেননা, এ আইনে পুলিশকে সরাসরি মামলা করা ও পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও সংবাদকর্মী ছাড়াও অনলাইন ব্যবহারকারীদের আশঙ্কা ছিল এ আইনের অপব্যবহার হতে পারে। সেই আশঙ্কা সত্য হয়েছে। যার শিকার হয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান সাংবাদিক প্রবীর শিকদারসহ আরো অনেকে। সর্বশেষ যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নাজমুল হোসাইনের বিরুদ্ধে এ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে এ ধরনের ‘হয়রানিমূলক’ মামলাকে হুমকি মনে করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
নেতারা আরো বলেন, সম্প্রতি এ আইনটি নিয়ে দেশে এবং দেশের বাইরেও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এই অবস্থায় চলতি বছরের ২ মে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঘোষণা দিয়েছেন- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা থাকছে না। কিন্তু এ ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক এ দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে এ আইনটি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা