সাড়ে ৩ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য জবি ছাত্রলীগ!
সম্মেলনের পর সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় পার হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। আগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন কমিটি না হওয়ায় সংগঠনের কাজকর্মও এখানে অনেকটা স্থবির। পদের আশায় নেতাকর্মীরা ধরণা দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।
২০১২ সালের ৩ অক্টোবর শরিফুল ইসলামকে সভাপতি এবং সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জবি শাখা ছাত্রলীগের এক বছরের জন্য কমিটি করা হয়। এ কমিটি প্রায় সাড়ে চার বছর পার করে। গত ৩০ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয় শরীফ-সিরাজের নেতৃত্বাধীন এ কমিটি। সম্মেলনের দিন জানানো হয়েছিল, দু-একদিনের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এখনো কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন পদ প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক পদপ্রত্যাশী প্রার্থী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সাড়ে তিন মাস হয়েছে সম্মেলন হলো। অথচ কমিটি ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না। এতে সংগঠন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
কমিটি না হওয়ার পেছনে কয়েকটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েক নেতা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মন্ত্রী নিজেদের সমর্থকদের রেখে কমিটি তৈরির চেষ্টা করছেন। মূলত এ দ্বন্দ্বের কারণেই কমিটি হচ্ছে না।
জানা যায়, এই সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা ও প্রবাসী শাখার নতুন কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু সম্মেলনের সাড়ে তিন মাস পরও জবির কমিটি না হওয়ায় ক্যাম্পাসে নেতা-কর্মীদের আর আগের মতো সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না।
জবি ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাদের এখন ক্যাম্পাসে তেমন দেখা না গেলেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাঁরা দেন-দরবার করছেন ঠিকই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে খান মোহাম্মদ মিজান, সাইদুর রহমান জুয়েল, হারুন অর-রশিদ, এইচ এম কামরুল হাসান, শামীম রেজা, সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন, আপেল মাহমুদ, সুরঞ্জন ঘোষ, তানভীর রহমান খান প্রমুখ রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হেসেন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘জবি ছাত্রলীগের কমিটি এই মাসের মধ্যেই দিয়ে দেব ইনশাল্লাহ। যারা যোগ্য এবং রাজনীতিতে সক্রিয় তাদেরকেই নতুন কমিটিতে রাখা হবে।’

আশিকুর রহমান