যৌন হয়রানিসহ দুর্নীতির দায়ে ইবির শিক্ষক চাকরিচ্যুত
যৌন হয়রানিসহ দুর্নীতির দায়ে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৬তম সিন্ডিকেট সভা শেষে স্থায়ীভাবে ওই শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানানো হয়।
নিয়োগ বাণিজ্যসহ অর্থ আত্মসাতের দায়ে একই বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সভাপতিত্বে ২৩৬তম সিন্ডিকেট সভা উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়ে দীর্ঘদিন তদন্ত কমিটির মাধ্যেমে পর্যবেক্ষণ, ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, পিএইচডি জালিয়াতি, বিভাগের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিভাগ থেকে দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এতে আসাদুজ্জামানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধির ৪(ডি) ধারা অনুযায়ী ২৩৬তম সিন্ডিকেটে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে অডিও ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধির ৪ এর ১ (এফ) উপধারা অনুযায়ী আগামী তিন বছরের পদোন্নতি ও তিনটি ‘ইনক্রিমেন্ট’ বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তিনি পাঁচ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কর্মচারী ওয়ালিদ হাসান মুকুটের বিরুদ্ধে হলের টাকা আত্মসাৎ ও বাসা ভাড়া ফাঁকির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সিন্ডিকেটের নির্দেশে তাঁকে ওই টাকা ফেরত এবং ছয় বছরের অনাদায়ী বাসা ভাড়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেকটি দুর্নীতির বিচার হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম কঠোরভাবে বিচার হয় না। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেয়নি এবং দেবে না।’

ইবি সংবাদদাতা