যবিপ্রবির সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার
অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জড়িত সাত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা এবং ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের এস এম শামীম হাসান ও বিপ্লব কুমার দে শান্ত, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের তানভির ফয়সাল, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের আল মামুন সিমন ও মাসুদুর রহমান রনি এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানভির আহমেদ তানিন ও আশিক খন্দকার।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নাসিম রেজাকে। কমিটির সদস্যরা হলেন শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ড. ওমর ফারুক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) পরিচালক প্রভাস চন্দ্র রায়। সদস্য সচিব করা হয়েছে সহকারী পরিচালক (প ও উ) ড. আবদুর রউফকে।
কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জড়িতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, রিজেন্ট বোর্ডের সভায় প্রক্টরিয়াল বডির রিপোর্ট, প্রাধ্যক্ষ বডির রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবিগুলোও আলোচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে।
রিজেন্ট বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ আবুল হোসেন, যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, যবিপ্রবির জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এ এস এম মুজাহিদুল হক, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মো. ওমর ফারুক, যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তোরাব মোহাম্মদ হাসান এবং যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন এবং দুঃখজনক। এটা মানা যায় না, গর্হিত অপরাধ।’ তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন ডেস্ক