‘এক্সক্লুসিভ সাজেশনের’ নামে ছাত্রলীগকর্মীর ‘বাণিজ্য’
‘এক্সক্লুসিভ সাজেশন’ দেওয়ার নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। গত রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের বেশ কয়েটি কক্ষ থেকে এই টাকা আদায় করা হয় বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী শাওন ও ওয়ারেসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠলেও তাঁরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। দুজনই হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বেলায়েত মাহমুদ প্রিন্সের অনুসারী বলে জানা যায়।
শাওন ও ওয়ারেস ছাত্রলীগের কর্মী নয় বলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে তাদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় হলের মধ্য-ব্লকের নিচতলা, গেমস রুম, অডিটেরিয়াম রুম, প্রথম ব্লকের নিচতলা ও গেস্টরুমে অবস্থানরত ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করে ছাত্রলীগের দুই কর্মী।
হল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান নেন। শাওন ও একই বিভাগের ওয়ারেস ভর্তিচ্ছুদের কাছে গিয়ে নিজেদের ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে তাদের ‘এক্সক্লুসিভ সাজেশন’ নিতে ২০ টাকা দাবি করে। এ সময় ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে তাঁরা টাকা আদায় করে দুটি প্রশ্নপত্র হাতে ধরিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুড়িগ্রাম থেকে আসা এক ভর্তিচ্ছু জানান, ‘সন্ধ্যায় দুইজন ভাই এসে নিজেদের ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে আমাদের হাতে দুইটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। তার বিনিময়ে আমাদের ২০ টাকা দিতে বলে। আমরা ভয় পেয়ে গেছিলাম। তাই টাকা চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিয়েছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভর্তিচ্ছু বলেন, ‘সন্ধ্যায় দু’জন আমাদের রুমে এসে দুটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে টাকা চায়। পরে আমরা তাদের নাম জানতে পারি, একজন ওয়ারেস ও আরেকজন শাওন।’
অভিযোগ অস্বীকার করে শাওন বলেন, ‘ভর্তিচ্ছুদের কোনো পরীক্ষাই নেওয়া হয়নি। তাহলে টাকা নেওয়ার প্রশ্ন আসছে কীভাবে? কেউ হয়তো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘এ ধরনের বাণিজ্য করার কোনো অনুমতি রাবি শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তাঁরা ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ এমন কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাবি সংবাদদাতা