রাবির ছাত্রী হলে বেশি দামে খাবার বিক্রির অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ছাত্রীদের তিনটি আবাসিক হলের ডাইনিংয়ে ও একটি হলের ক্যান্টিনে খাবারের নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান, রহমতুন্নেছা ও তাপসী রাবেয়া হলে ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ক্যান্টিনে খাবারের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের জুনে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাবার মূল্য নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিল। সেখানে দুপুরের খাবারের দাম ২৪ টাকা আর রাতের খাবারের দাম ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রহমতুন্নেছা হলে দুপুরের খাবারের মূল্য ২৪ থেকে বাড়িয়ে ২৭ টাকা ও রাতের খাবারের মূল্য ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মন্নুজান হলে দুপুরের খাবারের মূল্য ২৫ টাকা ও রাতের খাবারের মূল্য ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাপসী রাবেয়া হলেও একইভাবে বেশি মূল্য নেওয়া হচ্ছে।
মন্নুজান হলের আবাসিক ছাত্রী জেম মনি বলেন, ‘গত রোববার দুপুর থেকে কোনো নোটিশ ছাড়াই হলে ডাইনিংয়ের খাবারের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আজও দেখছি ওই বেশি মূল্যেই খাবার বিক্রি করা হচ্ছে।’
তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী আসমা সিদ্দিকা বলেন, ‘হল প্রশাসন আমাদের ওপর রীতিমতো জুলুম করছে। একে তো তারা মূল্য বেশি নিচ্ছে, তার ওপর বস্তাপচা সব খাবার দিচ্ছে ডাইনিংয়ে। এ বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।’
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের কয়েকজন আবাসিক ছাত্রী জানান, তাঁদের হলের ডাইনিংয়ের খাবারের দাম আগের মতোই আছে। কিন্তু হলের ক্যান্টিনে দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে হাফ প্লেট খিচুড়ি পাঁচ টাকা রাখলেও এখন তা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া ও রোকেয়া হলে খাবারের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে ওই হলের আবাসিক ছাত্রীরা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে মন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিন্নাত ফেরদৌসী বলেন, ‘ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি খাবারের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়ে থাকে, তাহলে বন্ধের ব্যবস্থা নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘খাবারের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি জেনেছি। এটি দেখার দায়িত্ব হল প্রশাসনের। হল প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’

রাবি সংবাদদাতা