ঢাবি প্রাধ্যক্ষের নির্বাচনী কাজে কর্মচারীরা!
কাজের নির্ধারিত সময়ের বাইরে কর্মচারীদের দিয়ে নির্বাচনী কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মাদ মুহসিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে প্রাধ্যক্ষ কর্মচারীদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছেন। গত বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হল কার্যালয়ের একটি কক্ষে গিয়েও এর সত্যতা পাওয়া যায়।
প্রাধ্যক্ষ নিজেও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগামী ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের জন্য হলের কর্মচারীরা বিভিন্ন নথিপত্র-চিঠি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কাজ করছেন। বুধবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত হলের বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে নির্বাচনী কাজ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছে, যদিও তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।
এদিকে ‘কর্মচারীদের কাজ করার’ একটা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করেন। এক শিক্ষার্থী বিষয়টির সমালোচনা করে নিজের ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রভোস্টও যদি অফিস টাইমের বাইরেও হলের জন্য কাজ করতেন, তাহলে হলে দুরবস্থা হতো না। সারা দিন কাজ করে আসা কর্মচারীদের দিয়ে নিজে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী কাজ করানো অন্যায়।’
প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, ‘আমার অফিস টাইম ছিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু আমি বিকেল ৫টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন চিঠিতে খাম লাগানো, চিঠি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করি।’
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি যদি কর্মচারীদের ৫০০ বা ১০০০ টাকা করে দিই, তবে তো সমস্যা নেই। হলের যেসব কর্মচারী কাজ করছিলেন না, তাদের নিয়ে এ কাজ করানো হয়। তারা তো কাজ করলে সমস্যা না। তা ছাড়া আমি হলের ফান্ডের টাকা দিয়ে তাদের কাজ করাই না। নিজের টাকা দেই ও তাদের খাওয়াই।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা