ছাত্রলীগের আপ্যায়ন উপকমিটিতে বহিষ্কৃত নেতা
চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের মধ্যে মারামারির ঘটনায় বহিষ্কৃত এক নেতাকেই আগামী ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার বহিষ্কৃত এই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। মোট আটজনকে এ আপ্যায়ন উপকমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম নুর আলম ভূঁইয়া রাজু। তিনি কেন্দ্রীয় সহসভাপতির পদ ছাড়া ঢাকা কলেজ শাখার আহ্বায়ক ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আগামী ৪ জানুয়ারি ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনটি। এই আয়োজন জাঁকজমকের সঙ্গে করতে ১১টি উপকমিটি করে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।
এর মধ্যে চাঁদাবাজির মামলার আসামি ও বহিষ্কৃত নেতাকে আপ্যায়ন উপকমিটির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে সংগঠনের ভেতরেই সমালোচনা আছে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে ছাত্রলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ওই নেতাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন তাঁকে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আপ্যায়নের দায়িত্ব দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। তাঁকে কীভাবে কমিটিতে আনা হয় নেতারাই ভালো জানেন।
গত ২১ জানুয়ারি ঢাকা কলেজে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরদিন নুর আলম ভূঁইয়া রাজুসহ ১৯ নেতাকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদেরকে বহিষ্কার করা হয়।
ওই ঘটনায় দুটি মামলাও হয়। যার একটি মামলায় আসামি করা হয় নুরে আলম ভুইয়া রাজুসহ ৮০ থেকে ৯০ জনকে। এঁদের মধ্যে রাজুসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান রাজু।
এ বিষয়ে নুরে আলম ভুইয়া রাজুকে একাধিকবার কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বহিষ্কৃত নেতাকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সে কীভাবে কমিটিতে এসেছে জানি না। তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

মামুন তুষার