ছাত্রলীগ নির্যাতন চালাচ্ছে, অভিযোগ আন্দোলনকারীদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান।
জানা যায়, গতকাল রাতে জসীমউদদীন হল, বঙ্গবন্ধু হল, বিজয় একাত্তর হল থেকে ছাত্ররা ছাত্রলীগের দেওয়া গেটের তালা ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে। অন্যদিকে ছাত্রীরা হলের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তালা ভেঙে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া স্যার এফ রহমান হল, মাস্টারদা সূর্য সেন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে শিক্ষার্থীদের মারধর করে ছাত্রলীগ।
এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করে যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান অভিযোগ করেন, ‘কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনকারীদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। মানসিক নির্যাতন চলছে যেন কেউ আন্দোলনে না যায়। এ ছাড়া সারা দেশে হুমকি ও হামলা দেওয়া হচ্ছে আন্দোলন থেকে সরে আসতে।’
বিবৃতিতে তিন দফা দাবি জানান রাশেদ খান। দাবিগুলো হলো—নিরাপদ ক্যাম্পাস, বহিরাগত মুক্ত ও ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে বহিষ্কারের লিখিতভাবে প্রকাশ করা।
এ সময় কোটা সংস্কারের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস পদক্ষিণ শেষে আবার সুফিয়া কামাল হলের সামনে অবস্থান করে।
কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশার হাতে আন্দোলনকারী ছাত্রীদের নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় হলের ভেতর আন্দোলন করেন কয়েকশ ছাত্রী। হলের ভেতর প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।
একই সময় সুফিয়া কামাল হলের বাইরে হাজার হাজার ছাত্র জড়ো হন। আন্দোলনকারীরা ছাত্রলীগ নেত্রী ইফ্ফাত জাহান এশাকে বহিষ্কার করে তার সনদপত্র বাতিল, আগের ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাদের হল থেকে বহিষ্কার এবং সুফিয়া কামাল হলকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা