‘এক দফা এক দাবি, সাত কলেজমুক্ত ঢাবি’
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্তি থেকে বাতিলের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা।
‘সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলনে’র ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘এক দফা এক দাবি, সাত কলেজমুক্ত ঢাবি’।
২০১৯-২০ সেশনে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় প্রতিবাদ জানান ঢাবি শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত জুলাইয়ে কয়েক দফায় আন্দোলন করেন এই শিক্ষার্থীরা।
এর আগে একই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ২১ থেকে ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা দিয়ে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করা হয়। ২৩ জুলাই ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ তালা ভেঙে ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়। ২৪ জুলাই সাত কলেজের অধিভুক্তি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কার্যকর সুপারিশ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। যার আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। কমিটিকে প্রথমে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হলেও পরে আরো ৩০ কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কমিটি এখন পর্যন্ত সুপারিশ দিতে পারেনি।
এসব বিষয় উল্লেখ করে মানববন্ধনে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শাকিল মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সাত কলেজ অধিভুক্তির যৌক্তিক কোনো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অবিলম্বে নতুন সেশনে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাকি একটা কমিটি করেছিল, কিন্তু তারা কোনো কাজ করতে পারে নাই। তারা তাদের ব্যর্থতার কথাই জানান দিচ্ছে এর মধ্য দিয়ে।’
আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সালেহ উদ্দীন সিফাত বলেন, ‘যে কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, সে কমিটি আমাদের কেন দেখানো হলো। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে তারা বুঝিয়েছে, তারা কোনো সমাধান করতে পারবেন না।’
কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘আমরা কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। আমরা দ্রুত ডাকসুর সঙ্গে মিটিং করে আরো কিছু সুপারিশ জমা দেব।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা