জাবির ক্যান্টিন কর্মীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রীতিলতা হলের এক ক্যান্টিন কর্মীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। আজ বুধবার বেলা সোয়া ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা গেটসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‘ধর্ষণ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা পাথালিয়াবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধনে এলাকাবাসী ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, জাবি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সুমন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঘটনার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো দোষীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উল্টো পুলিশ দোষীদের বাঁচাতে উঠেপড়ে লেগেছে।’
তন্ময় নামের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের ফলে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন হয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ক্যান্টিন কর্মী ধর্ষিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ শরীফ অভিযোগ করেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় মেডিকেল টেস্টসহ যে ধরনের তদন্ত হওয়া উচিত, সেগুলোর কিছুই হচ্ছে না। আলামত নষ্ট করতে ঘটনার দুদিন পর নিজেদের মতো করে একটি মামলা সাজিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে মেয়েটিকেও বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ঘটনার মূল হোতা স্থানীয় লেহাজ উদ্দিন মেম্বারের ছেলেকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি।’
পুলিশ পাঁচ-ছয় লাখ টাকা খেয়ে আসামিদের ধরছে না বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি।
দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত ২৬ মার্চ রাতে প্রীতিলতা হলে কাজ শেষে ওই ক্যান্টিনকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আমবাগান এলাকায় তাঁর বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যান। রাত ৩টার দিকে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লেহাজ উদ্দিনের ছেলে সুজনের নেতৃত্বে তার বন্ধু ফজলুল, মানিকসহ আরো তিন-চার যুবক ‘বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে’ এই অভিযোগ তুলে ওই কিশোরীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

জাবি সংবাদদাতা