প্রক্টরের অপসারণ দাবিতে জাবিতে সংহতি সমাবেশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর ড. তপন কুমার সাহার পদত্যাগ দাবিতে সংহতি সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় বেলা সাড়ে ১১টায় সমাবেশ শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ২টার দিকে।
সমাবেশে প্রক্টরের অপসারণ দাবিতে আগামীকাল রোববার ও পরশু সোমবার গণসংযোগ এবং আগামী মঙ্গলবার মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এত দিন শুধু বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করেছে। তবে আজকের সমাবেশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হারও ছিল লক্ষণীয়।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘তনুসহ সকল গুম-হত্যা-ধর্ষণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পুলিশি হামলার মুখে নিরাপত্তা দিতে তো পারেনি, উল্টো দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রক্টরকে বাঁচাতে বিভিন্ন গল্প তৈরি করছে।’
জাবি প্রক্টরকে উপাচার্যের ‘সেনাপতি’ উল্লেখ করে নাসিম আখতার বলেন, ‘উপাচার্য এই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। আপনি শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেননি, আর এখন আপনার সেনাপতিকে বাঁচাতে কৌশল আঁটছেন? আমরা বলতে চাই, এই শিক্ষার্থীবিরোধী, গণবিরোধী প্রক্টরকে বাঁচাতে কোনো কৌশলই কাজে আসবে না। অতএব এই প্রক্টরকে অবিলম্বে অপসারণ করুন।’
সমাবেশে ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাসিরুদ্দীন প্রিন্স শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক রাতেরই ভোর আছে। এ আন্দোলনও সফল হবে। প্রক্টরকে অবশ্যই অপসারণ করতে হবে। এর আগে এখানকার শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকজন উপাচার্যকে গদি থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন, কয়েকজন প্রক্টরের ক্ষমতার অবসান ঘটানো হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাবেক সভাপতি সৌমিত জয়দ্বীপ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. শামসুজ্জোহার মহান আত্মত্যাগের গল্প আজকালকার প্রক্টররা ভুলে গেছেন। ‘পদত্যাগ’ জাহাঙ্গীরনগরের এই প্রক্টরের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক বিদায়ের পথ হয়ে যায়। তাঁর যে অপরাধ তাতে তাঁকে ‘অপসারণ’ করা উচিত।
আন্দোলনে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই নেতা আরো বলেন, সমস্যা একটাই, তাঁকে যিনি অপসারণ করবেন, তিনি একটা পুতুল প্রশাসনের প্রধান। মাথার ওপরে আছেন একজন ক্ষমতাবান বড় ভাই। নিচে তিনি একজন প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করা ‘জ্বি হুজুর’ টাইপ মিডিওকার! তিনিও বহু দোষে দুষ্ট।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জুবায়ের টিপু বলেন, এটা স্পষ্ট, প্রক্টরের নির্দেশেই সেদিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছিল। যেহেতু তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ছেন না, তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁকে পদ থেকে নামানো হবে।
জাবি ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, ‘যিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারেন না, এমন ছাত্র স্বার্থবিরোধী প্রক্টরকে আমরা আর চাই না।’
সভাপতির বক্তব্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল বলেন, ‘প্রক্টরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মিথ্যাচার আমরা আর মানছি না। এই প্রক্টরের অপসারণের আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলনের মাঠ ছাড়ছি না।’
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রগতিশীল ছাত্রজোট নেতা শফিকুল ইসলাম, মশিউর রহমান, আকাশ প্রমুখ।
প্রক্টরকে অপসারণ করা না হলে উপাচার্য নিজেই বিপদে পড়ে যাবেন বলেও সমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।
সাম্প্রতিক অতীতে আন্দোলনের মুখে জাবির দুজন উপাচার্য ও এক প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

জাবি সংবাদদাতা