রোকেয়া হলের মধুর স্মৃতির রোমন্থন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের চতুর্থ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘সুবর্ণ স্মৃতির মধুর আনন্দে এসো মিলি মোরা সৃজনী ছন্দে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে দিনব্যাপী আয়োজিত এই পুনর্মিলনী উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. রওশন আরা ফিরোজ। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম বেগম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক সালমা আখতার। এতে সহস্রাধিক প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, ‘রোকেয়া হলের ছাত্রী হিসেবে গর্ববোধ করি। কারণ এই হলটি যে মহীয়সী নারীর নামে নামকরণ করা হয়েছে; তিনি নারীদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে এই হলের ছাত্রীরা অবদান রাখছে।’
নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সময় সমাজ ভিন্নভাবে চলত। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। আজকে যে রিজার্ভ বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে সবই নারীদের কারণে সম্ভব হয়েছে।’
উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অ্যালামনাইদের সম্মিলনে নানা প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। অ্যালামনাইরা এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশ-বিদেশে বিভিন্নভাবে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। এ ধরনের আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাতৃসম প্রতিষ্ঠান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও মিলনের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব উল্লেখ করে উপাচার্য আরো বলেন, ‘আলোকিত ভুবন আমরা চাই। চারদিক আলোকিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আপনারা যেখানে উপস্থিত থাকেন’ সেই জায়গাটা আলোকিত হয়ে ওঠে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হলেরই একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের।’
বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ প্রতিবছর ৫০০ ছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে সমাজে নানাভাবে অবদান রাখায় রোকেয়া হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রাক্তন সাতজন ছাত্রীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন মিসেস সাঈদা খানম, ফাহমিদা খাতুন, মালেকা বেগম, লায়লা হাসান, রাফিয়া আক্তার ডলি, সাবিনা ইয়াসমিন ও জিনাত বরকতউল্লাহ।
উদ্বোধন পর্ব শেষে প্রাক্তন ছাত্রীরা মেতে ওঠেন আড্ডায়। টিএসসির সবুজ মাঠে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। যেখানে বসে তারা পুরোনো দিনে ক্যাম্পাসের স্মৃতি ভাগ করছেন তাঁরা। আনন্দঘন এই মুহূর্তকে ক্যামেরা ফ্রেমে বন্দি করছেন। বাদ যাচ্ছে না সেলফি তোলাও।

ঢাবি সংবাদদাতা