ফি নিয়ে জাবিতে প্রশাসন ও ছাত্র জোট মুখোমুখি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিভাগ উন্নয়ন ফি’ আদায় ইস্যুতে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে উভয় পক্ষ।
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভর্তি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটালে অথবা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহতকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।’
এর প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে প্রগতিশীল ছাত্র জোট জানায়, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা এই রকম কোনো হুমকিতে কোনোভাবেই পিছপা হব না এবং আমাদের কর্মসূচি পূর্বঘোষণা মোতাবেক চলবে।’
‘আমরা আরো জানিয়ে দিতে চাই যে, যৌক্তিক ইস্যুতে আন্দোলন করার অধিকার সবারই আছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই আন্দোলন বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে না! শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই প্রশাসনের এই ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের জবাব দেবে’, জানায় ছাত্র জোট।
এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর বিভাগ উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে সারা দিন ব্যাংক অবরোধের কর্মসূচি পালন করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। এতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরে গত রোববার উপাচার্যের সভাপতিত্বে ভর্তি কমিটির এক জরুরি সভায় বিভাগ উন্নয়ন ফি বহাল রাখা এবং আন্দোলনকারীদের বাধা এড়াতে অগ্রণী ব্যাংকের যে কোনো শাখা ও বিভাগের মাধ্যমে বিভাগ উন্নয়ন ফির টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৮ ডিসেম্বর স্থগিত হয়ে যাওয়া ভর্তি কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর (গত সোমবার) সংবাদ সম্মেলন ডেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রশাসনিক ভবন লাগাতার অবরোধ করে রাখার ঘোষণা দেয় প্রগতিশীল ছাত্র জোট।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় আজ। পাল্টা বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।

জাবি সংবাদদাতা