এক শিক্ষার্থীর অসুস্থতায় অন্যদের পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের এক শিক্ষার্থীর অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যাচের শিক্ষার্থীকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক পরীক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ায় বাকি ২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না নিলেও, শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি- তাদেরকে একটি বিশেষ মহলের চাপে পরীক্ষা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুপস্থিত সকল শিক্ষার্থীকেই অকৃতকার্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২-এর ‘এফএইচএম-৪২০’ বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। পরীক্ষার্থী তাহসিনা আনোয়ার শর্মী পরীক্ষার আগের রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন। সহপাঠীর অসুস্থতার কারণে মানবিক দিক বিবেচনায় সেদিন বাকি ২৬ জন শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এ বিষয়ে গত ২৭ এপ্রিল শর্মী এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন তারেক হাসান যৌথ স্বাক্ষরে উপাচার্য বরাবর ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন।
মানবিক কারণে পরীক্ষা বর্জনের কথা বলা হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তারা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পর্যন্ত এলেও একটি বিশেষ চক্রের চাপে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তাদের অভিযোগ, অনুষদের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মানিক শিক্ষার্থী শর্মীকে ‘ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট’ বানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। শর্মী অসুস্থতার কারণে একা পরীক্ষা না দিলে তাকে অকৃতকার্য দেখাতে হতো, তাই শর্মীর ফল সুরক্ষিত রাখতেই অন্যদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে শিক্ষার্থী তাহসিনা আনোয়ার শর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আর কিছু বলতে চাই না।
ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্স অনুষদের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মানিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে নষ্ট ও দুষ্টচক্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাড়া আর কেউই ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষক নেই।
আসাদুজ্জামান মানিক আরও জানান, শিক্ষার্থী তাহসিনা আনোয়ার শর্মীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছিলেন। পরদিন পরীক্ষার হলে তার দায়িত্ব থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়নি। তিনি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরীক্ষার হলে অবস্থান করে পরে ফিরে যান। ‘তাহসিনাকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট বানানোর’ বিষয়টি সম্পূর্ণ অপপ্রচার বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ‘ডাম্পিং স্টেশন’ ও ‘পচা জায়গা’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুল আহসান পরীক্ষা পিছানোর আবেদন এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে জানান, শুরু থেকেই কিছু অনিয়ম ছিল, যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের আবারও জরিমানা দিয়ে সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে হবে।
নাজমুল আহসান আরও বলেন, এক জায়গায় অফিস এবং অন্য দুই স্থানে ক্যাম্পাস হওয়ায় কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা ও তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপাচার্য নাজমুল আহসান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুটি অনুষদে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১১ জন শিক্ষার্থী চলে যাওয়ায় বর্তমানে ৫১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪২৬ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ রয়েছে, যারা এখনও কর্মরত আছেন।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা