৩ পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেননি ১১ শিক্ষক
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নেয়। সোমবার সারাদেশের সঙ্গে জামালপুরেও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির তিন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রথম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থীর শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১১ জন শিক্ষক পাঠদান করলেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ময়ছন আলী বলেন, মাত্র তিনজন এসএসসি পরীক্ষা দিল, আর কেউ পাস করল না- এটা লজ্জাজনক। স্কুলে ১১ জন শিক্ষক পাঠদান করেন। নিশ্চয়ই কোথাও গাফিলতি আছে। এই ফলাফলে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ বলেন, কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
মামুন-অর-রশীদ আরও বলেন, ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও প্রথম ব্যাচের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, শতভাগ ফেল করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। কেনো এতজন শিক্ষক থাকার পরও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারল না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তাদের কাছে জবাবদিহি করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর