তথ্য ঘোষণা ছাড়াই সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারদরে আগুন
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ৫০ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই কোম্পানির শেয়ার দর কারণ ছাড়াই বেড়েছে ১১৫ শতাংশ। শেয়ারটির দর এত বৃদ্ধির বিষয়টি ইতোমধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতে।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিএসইতে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি সমাপনী দর ছিল ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমাপনী দর ছিল ২১ টাকা ১০ পয়সা। দুই মাস ১১ দিন বা ৫০ কর্মদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে ২৪ টাকা ২০ পয়সা বা ১১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক উত্থান ডিএসইর নজরে আসে। শেয়ার দর বাড়ার কারণে সম্প্রতি কোম্পানিটিতে ডিএসই নোটিস পাঠিয়েছিল। এর জবাবে গত ৪ অক্টোবর কোম্পানিটি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ার দর বাড়ছে। ওইদিন (৪ অক্টোবর) শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৪৪ টাকা ১০ পয়সা। এরপর শেয়ার দর আরও বাড়ে। এরও আগে শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানতে কোম্পানিটিতে ডিএসই নোটিস পাঠিয়েছিল। তখন এর জবাবে গত ৯ আগস্ট কোম্পানিটি একই কথা বলেছিল, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ার দর বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসই সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে না। শেয়ার দর বৃদ্ধির পেছনে গোপন তথ্য, সমন্বিত লেনদেন বা বাজার কারসাজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোম্পানির তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদনে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ২২ পয়সা। এই অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস বা তিন প্রান্তিকের (জুলাই-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫১ পয়সা। তিন প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে নেগেটিভ দুই টাকা ১৪ পয়সা। গত ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা।
১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সায়হাম টেক্সটাইল। ‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৯০ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি পাঁচ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি। কোম্পানিটির ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালকরা ২১ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৪৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক