শিগগিরই আমানত ফেরত পাবেন পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা
একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের অর্থ শিগগিরই ফেরত পাবেন। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকরা তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন এসব তথ্য জানান।
অনিয়ম ও ঋণ খেলাপির চাপে দেশের ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সব জটিলতা দূর করে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে। প্রথমদিকে গ্রাহক দুই লাখ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। ধাপে ধাপে এই টাকা তোলার পরিমাণ বাড়বে। সব গ্রাহক তার আমানত ফিরে পাবে। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যেসব গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে দুই লাখ টাকার কম আছে, তারা সব টাকা একবারেই তুলতে পারবেন। যাদের অ্যাকাউন্টে দুই লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা চাইলে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত তুলতে পারবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক বা জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য টাকা তোলার এই সীমা শিথিল রাখা হয়েছে। প্রয়োজন তারা যেকোনো পরিমাণ টাকা তুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ব্যাংকের আমানতকারী তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ বিষয়টি শিগগিরই চালু হবে। তবে কবে থেকে টাকা পাওয়া যাবে সেই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র আরও বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কয়েকটি গণমাধ্যমে আগামী সোমবার থেকে একীভূতের আওতাভুক্ত একটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হবে বলে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা সঠিক নয়। এরূপ অসত্য তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। আলোচিত ওই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক