বাবার আমানত ফেরত পেতে মাকে নিয়ে মানববন্ধনে আহনাফ
অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। আজ বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা এ মানববন্ধন করেন।
এ কে এম আনসার উদ্দিন নামের একজন ভুক্তভোগী ছয় মাস আগে মারা গেছেন। তার অনুপস্থিতিতে চরম অর্থ সংকটে পড়েছে পরিবারটি। বাবার জমা থাকা টাকা ফেরত পেতে ছেলে আহনাফ রাফিদ তার মাকে সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
আহনাফ রাফিদ বলেন, বাবা তার পেনশন থেকে ১৬ লাখ টাকা পিপলস লিজিংয়ে রেখেছেন। সেই টাকা বেঁচে থাকা অবস্থায় বহুবার ওঠানোর চেষ্ঠা করেছে, কিন্তু তোলতে পারেনি।
বাবার সেই টাকা আদায়ে মাকে নিয়ে মানববন্ধনে এসেছেন জানিয়ে আহনাফ রাফিদ আরও বলেন, বাবার রেখে যাওয়া ১৬ লাখ টাকা পিপলস লিজিং যেন দ্রুত সময়ে ফেরত দেয়, সেই দাবি রাখছি।
মানববন্ধন আসা এ রকম অনেকেই আছেন, যারা তাদের পেনশনের টাকা রেখেছেন এসব প্রতিষ্ঠানে। বৃদ্ধ বয়সে ভালো ও সুস্থ থাকতে যেন তাদের অর্থ সংকটে পড়তে না হয়, সেই ভাবনায় এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে অনেকেই ক্যানসার, কিডনিসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রয়েছেন। এখন সেই মানুষের অর্থ পেতে ঘুরতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে। কোথায় কোনো কিনারা না পেয়ে এখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করছেন, এমনটিই জানালেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
লিখিত বক্তব্যে আমানতকারীরা বলেন, দেশের অবসায়ণাধীন ছয়টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষতিগ্রস্ত ১২ হাজারের বেশি আমানতকারীর প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা। গত সাত বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে কষ্টার্জিত সঞ্চয় আটকে থাকায় আমানতকারীরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক আমানতকারী ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না। চিকিৎসা বঞ্চনার কারণে ইতোমধ্যে একাধিক আমানতকারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে জনগণের আমানত সুরক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্ব বহন করে, এমনটি উল্লেখ করে আমানতকারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে কয়েকটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, আমানত ফেরতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পূর্বঘোষিত জুলাই ২০২৬ সময়সীমা অনুযায়ী দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর রোডম্যাপ ঘোষণা করা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আর্থিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের আমানত সুরক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও মানবিক ভূমিকা পালন করবে, এমনটিই প্রত্যাশা তাদের। তাই চলমান এই গভীর সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক